রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৭ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 20, 2026
September 20, 2026
জাতীয়
জাতীয়

কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়াচ্ছে পিকেএসএফ

Published: September 20, 2026 at 01:40 PM
কর্মসংস্থান বাড়াতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন বাড়াচ্ছে পিকেএসএফ

দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনে অর্থায়ন বাড়াচ্ছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এ লক্ষে সাধারণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা এবং নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক ক্লাস্টারে মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসসকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগে একজনের কর্মসংস্থান হলে উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ফরওয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজের মাধ্যমে আরো প্রায় চারজনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। তাই শুধু উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়ানো নয়, কর্মসংস্থান বাড়াতে পুরো উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিয়ে অর্থায়ন করতে চায় পিকেএসএফ।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আমরা বর্তমানে দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করছি। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরবরাহকারী, পরিবেশক ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।

পিকেএসএফের নতুন অর্থায়ন কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হলো কাঁচামালে মূল্য সংযোজন করে উচ্চমূল্যের পণ্য তৈরি করা। ফজলুল কাদের বলেন, বাংলাদেশকে শুধু প্রাথমিক পণ্য উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে না রেখে কাঁচামালে যতটা সম্ভব মূল্য সংযোজন করতে হবে। এজন্য দুধ থেকে ঘি, লাবান, চিজ ও বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং আম থেকে পাল্প, ভিনিগারসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত পণ্য উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব উদ্যোগে সাধারণ ক্ষুদ্রঋণের তুলনায় বেশি মূলধনের প্রয়োজন হয়। তাই অর্থায়নের সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে পিকেএসএফ। সাধারণ উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং ব্যবসায়িক ক্লাস্টারে মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদনের সম্ভাবনা বোঝাতে ভৈরবের জুতা শিল্পের উদাহরণ দেন তিনি। সেখানে কয়েক হাজার জুতা কারখানা রয়েছে এবং এসব কারখানায় জুতার সোলের চাহিদা রয়েছে। ঝুট থেকে সোল উৎপাদন করা সম্ভব হলেও এ ধরনের উদ্যোগে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।

ফজলুল কাদের বলেন, ‘মানুষ শুধু সোল কেনে না, জুতার কারখানাগুলো সোল কেনে। কাজেই এগুলোকে আমরা মধ্যবর্তী পণ্য বলি।’ এ ধরনের ক্ষুদ্র উৎপাদন উদ্যোগকে সহায়তা করা হলে একদিকে নতুন পণ্য তৈরি হবে, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট শিল্পেও কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি জানান।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, একটি ক্ষুদ্র উদ্যোগকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখলে এর প্রকৃত কর্মসংস্থান প্রভাব বোঝা যায় না। একটি উদ্যোগের সঙ্গে কাঁচামাল সরবরাহ, উৎপাদন, পরিবহন, বিপণন ও বিতরণের বিভিন্ন পর্যায় যুক্ত থাকে। তাই কর্মসংস্থান বাড়াতে পুরো মূল্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে অর্থায়নের আওতায় আনতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

প্রায় ৩৬ বছর ধরে পিকেএসএফ উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে উল্লেখ করে ফজলুল কাদের বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন শুধু অর্থায়নের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে নয়, অর্থায়নের ফলাফলের দিকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর মাধ্যমে কতটা কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে, সেটিও বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, পিকেএসএফের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকার একটি ক্রেডিট লাইন করেছে। এর প্রথম কিস্তির অর্থ ইতোমধ্যে ছাড় হয়েছে।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, পিকেএসএফের ঋণ আদায়ের হার দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ৯৯ শতাংশ। আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে এখন অর্থায়নের পাশাপাশি উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ফলাফলকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভ্যালু চেইন উন্নয়নে পিকেএসএফের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু সমস্যা শুধু ঋণ দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এজন্য ভ্যালু চেইনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও অন্যান্য সহায়তা দিতে সরকারের পক্ষ থেকে অনুদানের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

তিনি বলেন, পিকেএসএফ ইতোমধ্যে ৪০০টির বেশি ভ্যালু চেইন নিয়ে কাজ করেছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সরকারের সহযোগিতায় কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।