রবিবার ০৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: November 08, 2026
June 11, 2026
খেলাধুলা
খেলাধুলা

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় টাইগারদের

Published: June 11, 2026 at 02:50 PM
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক  সিরিজ জয় টাইগারদের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে এর আগে বাংলাদেশের জয়ই ছিল মাত্র একটি। সেটিও সেই ২০০৫ সালে, কার্ডিফে। দীর্ঘ ২১ বছর পর একদিন আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ। এবার প্রথমবারের মতো এই ফরম্যাটে জিতল সিরিজও।

রাজধানীর মিরপুরে বৃষ্টিবিঘিœত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৫ উইকেটে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। ৩৬ বল আর এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে টাইগাররা।

লক্ষ্য খুব বড় ছিল না। কার্টেল ওভারের ম্যাচে জিততে হলে ৪১ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯২ রান। তবে ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও ঘাম ঝরেছে বাংলাদেশের।

ইনিংসের প্রথম বলে অজি পেসার জাভিয়ের বার্টলেট তানজিদ তামিমের প্যাডে বল লাগান। জোরালো আবেদন হলেও আম্পায়ার তা নাকচ করে দেন। তবে পরের বলেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে বসেন তামিম (০)।

ওই ওভারের শেষ বলে আরো একটি উইকেট হারাতে পারত বাংলাদেশ। নাজমুল হোসেন শান্তর প্যাডে লাগলে আঙুল তুলে দিয়েছিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে জীবন পান শান্ত।

এরপর সৌম্য সরকার আর শান্ত জুটি ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। কিন্তু ফিফটি করতে পারেননি কেউই। শান্ত-সৌম্য দুজনই আউট হন সমান ৪২ রান করে। সেট হয়ে আউট হন লিটন দাস আর মোসাদ্দেক হোসেন। লিটন ২১ আর মোসাদ্দেক করেন ১৫ রান। ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

সেখান থেকে মেহেদী হাসান মিরাজ আর তাওহীদ হৃদয় ম্যাচ বের করে নিয়ে আসেন। ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন মিরাজ। ২২ বলে করেন ২২। অন্যদিকে ৯৫ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়।

এর আগে বৃষ্টি নামার আগে বৃহস্পতিবার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিং করতে নামা অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ছিল ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান। অজিদের শেষ ভরসা মার্নাস লাবুশানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন ৫৫ রানে। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সেখানেই থেমেছে। প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় পর খেলা শুরু হলে বাংলাদেশকে ৪১ ওভারে লক্ষ্য দেওয়া হয় ১৯২ রানের।

মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। ইনিংসের তৃতীয় বলে তাসকিন আহমেদের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারি ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন ম্যাথু শর্ট। পরের ওভারে মোস্তাফিজুর রহমান দেন জোড়া ধাক্কা। একে একে তুলে নেন কুপার কোলোনি এবং ম্যাট রেনশোর উইকেট।

দুটি উইকেটেই ক্যাচ ধরেছেন উইকেটরক্ষক লিটন কুমার দাস। ০ রানে ৩ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম রান যোগ হয় অস্ট্রেলিয়ার স্কোরবোর্ডে, সেটাও আসে নো বল থেকে।

এরপর ২৫ রানে চতুর্থ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। মোস্তাফিজের করা অফ স্টাম্পের বাইরে শর্টপিচ ডেলিভারি স্কয়ার কাট করতে গিয়েছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। সেটা চলে যায় ফিল্ডার নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে। ফেরার আগে ১৭ বলে ১৩ রান করেন ক্যারি। এরপর ৭৫ থেকে ৮১, ৬ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নেন তানভীর ইসলাম।

৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে মার্নাস লাবুশেন আর জাভিয়ের বার্টলেট গড়েন শতরানের জুটি। কিছুতেই কিছু হচ্ছিল না। অবশেষে জোড়া শিকারের ওভারে জুটি ভাঙেন তাসকিন। ৪৮ বলে ৫২ রান করা বার্টলেটকে বোল্ড করেন এই পেসার।

এর কিছুক্ষণ পরই ঝমঝমিয়ে নামে বৃষ্টি। খেলা বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আর অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে নামতে পারেনি।

বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ আর মোস্তাফিজুর রহমান নেন ৩টি করে উইকেট। ২ উইকেট শিকার তানভীর ইসলামের।