বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে কুটির ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির লক্ষে বিশেষ তহবিলের আওতায় ১০১টি সহযোগী সংস্থার অনুকূলে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এর মধ্যে মাঠপর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার মধ্যে ১ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের ৮৭ শতাংশই নারী।
রবিবার পিকেএসএফের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘কুটির ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য বিশেষ তহবিল (সোপান)’ কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪টি জেলায় চারটি উপখাতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। উপখাতগুলো হলো— প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, উৎপাদনশিল্প, সেবা এবং ভ্যালু চেইন অর্থায়ন।
এসব খাতে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বিদ্যমান ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রমে অর্থায়ন করা হচ্ছে।
গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক ও অকৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এ কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
এছাড়া এসব উদ্যোগের ফরোয়ার্ড ও ব্যাকওয়ার্ড ভ্যালু চেইনে সম্পৃক্ত ব্যবসা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, এসব লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ ব্যাংক পিকেএসএফের অনুকূলে বিশেষ তহবিল হিসেবে ৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। এরই মধ্যে তিন ধাপে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা পাওয়া গেছে। অবশিষ্ট অর্থ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পাওয়া যাবে। সমুদয় অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঋণ বিতরণ কার্যক্রমের গুণগত মান বজায় রাখা এবং নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সদস্যভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঋণ বিতরণ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত তথ্য উন্নত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে দৈনিক ভিত্তিতে সংগ্রহ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।