মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩১শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
যাদের হাতে উঠলো এবারের এমি পুরস্কার যেভাবে দুই কোটির সিনেমার আয় করলো ২০০ কোটি মারা গেছেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠন করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃষক পর্যায়ে সারের দাম অপরিবর্তিত ডিলারদের প্রণোদনা বৃদ্ধি ৮-২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ হাটহাজারীতে গোলা বিস্ফোরণে শহীদ সেনাসদস্যদের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তা কমছে পদ্মা মহানন্দা পুনভর্বার পানি প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত ৫৩ বিজিবির পৃথক অভিযানে দুটি মোটরসাইকেলসহ জব্দ মাদকদ্রব্য, আটক একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বরেন্দ্র অঞ্চলে খরা সহনশীল কৃষিপ্রযুক্তি বিস্তারে প্রশিক্ষণ
Printed on: September 15, 2026
June 03, 2026
জাতীয়
জাতীয়

মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা জারি

Published: June 03, 2026 at 11:28 AM
মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা জারি

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি ব্যবস্থা চালু করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ।

‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ শীর্ষক এ নীতিমালার আওতায় শিক্ষক বদলির পুরো কার্যক্রম অনলাইনে ও সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

গত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়া এ নীতিমালার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের জন্য একটি স্বচ্ছ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর বদলি ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষকরা নির্ধারিত শূন্যপদের বিপরীতে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতা ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বদলির সুযোগ পাবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথম যোগদানের পর কমপক্ষে দুই বছর চাকরি সম্পন্ন না হলে কোনো শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় বদলির আবেদন করতে হলেও কমপক্ষে দুই বছর কর্মরত থাকতে হবে। একজন শিক্ষক তার পুরো চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলির সুযোগ পাবেন।

বদলির ক্ষেত্রে আবেদনকারী শিক্ষক বা শিক্ষিকা সাধারণত নিজ জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করবেন। নিজ জেলায় শূন্যপদ না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলার প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা যাবে।

পারিবারিক বা প্রশাসনিক বিশেষ কারণে অন্য জেলার জন্যও আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে সফটওয়্যার নির্ধারিত চারটি মানদ- অনুসারে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। এসব মানদ- হলোÑ নারী আবেদনকারী, বর্তমান ও কাক্সিক্ষত কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতা।

জ্যেষ্ঠতা সর্বশেষ জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালার আলোকে নির্ধারণ করা হবে। দূরত্ব নিরূপণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।

নীতিমালায় আরো বলা হয়েছে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুজন শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন। তবে একই বিষয়ের একাধিক শিক্ষককে একযোগে বদলি করা যাবে না।

আবেদনকারীরা অনলাইনে সর্বোচ্চ তিনটি কাক্সিক্ষত প্রতিষ্ঠানের নাম পছন্দক্রমে উল্লেখ করতে পারবেন।

বদলির আবেদন, যাচাই-বাছাই, অনুমোদন এবং চূড়ান্ত আদেশÑ সবকিছুই সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার পরিচালনা ও আবেদন ফরম্যাট নির্ধারণ করবে।

বদলিকৃত শিক্ষকের ইনডেক্স নম্বর অনলাইনে নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরিত হবে। ফলে তার এমপিও সুবিধা, চাকরির জ্যেষ্ঠতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

বদলির আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান বাধ্যতামূলক। যোগদানের তথ্যও অনলাইনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। অবমুক্তি থেকে যোগদান পর্যন্ত সময় চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। 

তবে যেসব শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বা কোনো ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে, তারা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

নতুন নীতিমালা জারির ফলে ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর জারি করা এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে নীতিমালার সংশোধন, পরিমার্জন বা ব্যাখ্যা দেওয়ার ক্ষমতা শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংরক্ষণ করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ সফটওয়্যারভিত্তিক বদলি ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে মাদ্রাসা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বদলি-সংক্রান্ত জটিলতা দূর হবে। পাশাপাশি শিক্ষক সংকট নিরসন, শূন্যপদ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষকদের পারিবারিক ও পেশাগত ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।