বুধবার ২০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 20, 2026
May 19, 2026
জাতীয়
জাতীয়

শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

Published: May 19, 2026 at 01:31 PM
শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ভূমি ভবনে ডে-কেয়ার সেন্টারের শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত সময় কাটিয়েছেন|

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষ করে প্রধানমন্ত্রী মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ডে-কেয়ার সেন্টার পরিদর্শনে যান|

ডে-কেয়ার সেন্টারজুড়ে তখন শিশুদের খেলনার টুংটাং শব্দ, কোথাও কচি কণ্ঠের হাসি আর আনন্দময় চিৎকার| ছোট ছোট পায়ে দৌড়ঝাঁপে মুখর চার দেয়াল| এমন প্রাণচঞ্চল মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান|

নিরাপত্তার কড়া দেয়াল ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ১৮ মিনিট সময় কাটান শিশুদের সঙ্গে| প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আনন্দে বিভোর হয়ে ওঠে|

প্রবেশের পরপরই শিশুদের সঙ্গে মিশে যান সরকারপ্রধান তারেক রহমান| মুহূর্তেই তাকে ঘিরে ধরেন ছোট্ট শিশুরা| কেউ হাত বাড়িয়ে করমর্দন করে, কেউ টেনে নিয়ে যায় খেলনার কাছে| কয়েকজন নিজেদের হাতে আঁকা ছবি দেখাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে| 

প্রধানমন্ত্রীও মন দিয়ে সেসব দেখেন, মুগ্ধ হাসিতে প্রশংসা করেন| কখনো আলতো করে হাত বুলিয়ে দেন শিশুদের মাথায়, কখনো তাদের কথায় হেসে ওঠেন প্রাণ খুলে|

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘিরে থাকা ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে নিয়ে কেক কাটেন| শিশুদের বিভিন্ন রকমের চকোলেট, টফি. ললিপপ নিজ হাতে দিয়েছেন, দিয়েছেন গিফট ব্যাগও| চকোলেট-টফি দিতে দিতে শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর কেউ কি বাকি আছে? পেয়েছ তোমরা সবাই?

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আজকে কার জন্মদিন বলো তো? একেকজনকে বলতে শোনা যায়, আংকেল আমার, আংকেল আমার|’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে তোমাদের সবার জন্মদিন| আসো আমরা এক সাথে কেক কাটি|’

এরপর শিশুদের নিয়ে কেক কাটেন সরকারপ্রধান|

এ সময়ে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো কক্ষ| শিশুরা আনন্দে বলছিল, ‘হ্যাপি হ্যাপি, হ্যাপি ডে, হ্যাপি বার্থ ডে|’ এর মধ্যে একজন শিশু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কেক খাইয়ে দেয়|

ডে-কেয়ার সেন্টারের কর্মকর্তা মাহিয়া তাসনুভ তামান্না এখানে শিশুদের কীভাবে যত্ন নেয়া হয় তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন|

প্রধানমন্ত্রী ওই সময়ে জানতে চান, শিশুদের কী কী খাবার দেয়া হয়| ওদের মানসিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে কিনা তা খেয়াল রাখতে বলেন|

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয় এইসব শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র পরিচালনা করে| ঢাকাসহ সারাদেশে এ ধরনের ডে কেয়ার সেন্টার রয়েছে ২০টি|

তিনি আরো জানান, চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা এই কেন্দ্রে সাড়ে ১০ ঘণ্টা সেবা পেয়ে থাকে| এই কেন্দ্রে শিশুরা সংখ্যায় ৬০ জন| আজ উপস্থিত ৫৫ জন|

প্রধানমন্ত্রী ডে কেয়ার সেন্টারটিতে আনন্দঘন অবস্থান শেষে হাত নেড়ে শিশুদের কাছ থেকে বিদায় নেন|

প্রধানমন্ত্রী যখন বের হয়ে আসছিলেন তখন শিশুরা হাত নেড়ে, সালাম দিয়ে বিদায় জানান| শিশুদের নিষ্পাপ হাসি আর ভালোবাসার ভেতর প্রধানমন্ত্রী যেন কিছুক্ষণের জন্য ভুলে গিয়েছিলেন দায়িত্বের কঠিন বাস্তবতা|

সেন্টারটি পরিদর্শনের সময়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ছাড়াও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন| খবর বাসস|