সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে দেখা করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল| বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় দেখা করে মন্ত্রীর কাছে চারটি ডিও লেটার দিয়েছেন তিনি|
চারটি ডিও লেটারে রাজশাহী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ ও ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিত করা; চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন হতে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন এবং স্থলবন্দর হতে সরাসরি ঢাকা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; রাজশাহী থেকে চলাচলকারী পদ্মা, ধূমকেতু, কপোতাক্ষ ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ অন্য ট্রেনগুলোকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিতকরণের জন্য এখানে ওয়াশ ফিট ও ডকইয়ার্ড নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিদ্যমান শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর (মহানন্দা সেতু) সেতুসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন নির্মিত সেতুগুলোর টোল আদায় সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরা হয়েছে|
আন্তঃনগর ট্রেন সংক্রান্ত ডিও লেটারে নূরুল ইসলাম বুলবুল উল্লেখ করেছেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সর্ব পশ্চিমের সীমান্ত জেলা| ব্যবসা- বাণিজ্য, শিক্ষা, পর্যটন এবং বিশেষ করে আম ও রেশম শিল্পের কারণে এই জেলার গুরুত্ব অপরিসীম| প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এখান থেকে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত করেন| কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ঢাকার সাথে সরাসরি মাত্র একটি ট্রেন থাকায় এই অঞ্চলের মানুষকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়| বর্তমানে রাজশাহী থেকে ঢাকা রুটে চলাচলকারী ‘পদ্মা এক্সপ্রেস’ এবং ‘ধূমকেতু এক্সপ্রেস’ ট্রেন দুটি রাজশাহীতে এসে যাত্রা শেষ করে| এই ট্রেন দুটি যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়, তবে এই জেলার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে এবং নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন| এতে রেলওয়ের রাজ¯^ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের একটি প্রাণের দাবি পূরণ হবে| এমতাবস্থায়, জনস্বার্থ বিবেচনা করে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর যাতায়াত ব্যবস্থা সুগম করতে উল্লিখিত ট্রেন দুটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত চলাচলের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ জানান তিনি|
এছাড়া অপর ডিও লেটারে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ওয়াশ ফিট ও ডকইয়ার্ড নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন|
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ রেলস্টেশন হতে সোনামসজিদ স্থলবন্দর পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন এবং স্থলবন্দর হতে সরাসরি ঢাকা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে ডিও লেটারে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সোনামসজিদ স্থলবন্দর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর| এই বন্দরের মাধ্যমে প্রতিবছর ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর, কয়লা, ফলমূলসহ নানা অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আমদানির পাশাপাশি বাংলাদেশী পণ্য রপ্তানি করা হয়| বর্তমান ব্যবস্থায় এই পণ্যগুলো শুধুমাত্র সড়কপথে পরিবহণ করা হয়, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ| এছাড়া সোনামসজিদ এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক পুরাকীর্তি ও পর্যটন কেন্দ্রের বিকাশেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা জরুরি|
বাংলাদেশ রেলওয়ে এরই মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সোনামসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৩৬.৭৪ কিলোমিটার নতুন ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণের একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে| এই রেললাইনটি স্থাপিত হলে সোনামসজিদ স্থলবন্দর সরাসরি রাজধানী ঢাকার সাথে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে| এর ফলে পণ্য পরিবহণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং রেলওয়ের রাজ¯^ বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে| সড়কপথের ওপর অতিরিক্ত চাপ ও যানজট কমবে| আম ও রেশমসহ স্থানীয় কৃষিপণ্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে রাজধানীসহ সারাদেশে পৌঁছানো সম্ভব হবে| স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের আমূল পরিবর্তন ঘটবে| এছাড়া এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের পশ্চিমবাংলার মালদহ রেলস্টেশনের মাধ্যমে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথেও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে| এমতাবস্থায়, সোনামসজিদ স্থলবন্দর হতে ঢাকা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন রেল যোগাযোগ নিশ্চিত করতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ- সোনামসজিদ নতুন রেললাইন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রেলমন্ত্রীকে অনুরোধ বুলবুল এমপি|
এছাড়াও তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিদ্যমান শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর (মহানন্দা সেতু) সেতুসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতাধীন নির্মিত সেতুসমূহের টোল আদায় সংক্রান্ত বিষয়ে আরেকটি ডিও লেটার দিয়ে টোল মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন|