চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর ও নামো জগন্নাথপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে পানিসম্পদ মন্ত্রীকে ডিও লেটার (চিঠি) দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ। গত ৮ অক্টোবর তিনি এই ডিও লেটারটি দিয়েছেন।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, “আমার নিজ এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় পদ্মা ও মহানন্দা নদীর ভাঙন পরিস্থিতি নিয়ে আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ প্রেক্ষাপটে ভাঙন কবলিত এলাকাসমূহে আপৎকালীন জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে ইতঃপূর্বে ২টি পত্রের মাধ্যমে আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, যেখানে শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর এলাকার প্রায় ৮০০ মিটার ভাঙনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্প্রতি পদ্মা নদীর বাম তীরে দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর এবং পার্শ্ববর্তী নামো জগন্নাথপুর এলাকায় নতুন করে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানেই প্রায় ৫০০ বিঘা আবাদি জমি, বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং ভাঙন ক্রমশ লোকালয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নদী তীরবর্তী ঘরবাড়ি, আমবাগান, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এখন সরাসরি বিলীন হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে; এলাকাবাসী চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে। বর্ষা-পরবর্তী সময়ে নদীর পানি কমতে থাকায় তীরের মাটি ধসে ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই বসতভিটাসহ বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। এমতাবস্থায়, পরিস্থিতির ভয়াবহতা ও জরুরি বিবেচনায় দুর্লভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর ও নামো জগন্নাথপুর এলাকায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধে কালবিলম্ব না করে জিও-ব্যাগ ডাম্পিংসহ আপৎকালীন জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ শুরু করা এবং ভাঙনকবলিত এলাকায় স্থায়ী তীর সংরক্ষণ কাজ গ্রহণের লক্ষে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দসহ বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।”
সাইমুম পারভেজ ডি.ও. লেটারটি তার ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন। সেই সঙ্গে পোস্টে তিনি জানিয়েছেন, শিবগঞ্জের নামো জগন্নাথপুরসহ অন্যান্য অংশে নতুন করে পদ্মার ভাঙন রোধে ১. মাননীয় পানিসম্পদ মন্ত্রী বরাবর ডিও লেটার দেয়া হয়েছে, ২. পানিসম্পদ সচিব, ডিজি ও রাজশাহী বিভাগীয় নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে ফোনালাপ হয়েছে। অতিদ্রুত জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে, ৩. শুকনো মৌসুম শুরু হওয়া মাত্রই স্থায়ী বাঁধও নির্মাণ করার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।