রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, বিসিএস বা এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
৪৯তম বিসিএস (বিশেষ শিক্ষা) ক্যাডারের নিয়োগের প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছি, গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করেছি। এই বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, এই সমস্ত পরীক্ষা বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে সেই কারণে কোনো বৈষম্য করা হবে না।
তিনি বলেন, এখানে কয়েকটি উদাহরণ আমি আপনাদের দিতে পারি। সোশ্যাল মিডিয়াতে— মনে হয় ফেসবুকে একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তিনি আত্মহত্যা করবেন, গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন। প্রজ্ঞাপনে তার নাম ছিল, কিন্তু ভেরিফিকেশনের কারণে পরবর্তীতে চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসেনি; সেজন্য গায়ে আগুন ধরিয়ে দেবেন! প্রজ্ঞাপন তো একবার হয় না, কয়েকবার হতে পারে। সার্ভিসে যোগদানের তারিখ সম্ভবত ১২ তারিখ, আজকে ১ তারিখ, মাঝে আরো ১১টি দিন আছে। যারা এই সমস্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন। তিনি তাদের একজন।
মন্ত্রী বলেন, তার রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চয়ই আপনারা জেনেছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় হচ্ছে— তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি হলে একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠনের পদ-পদবিধারী নেতা ছিলেন, সম্ভবত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার সেই রাজনৈতিক বিবেচনার কারণে তিনি সন্দেহ করে নিয়েছেন যে, তাকে চাকরির নিয়োগ দেওয়া হয় নাই। আমি এখন ঘোষণা করছি, আগেও বলেছি— কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কারো বিরুদ্ধে যদি গুরুতর কোনো অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে শতকরা একজন বা হাজারে দুই-একজনের সেই অপরাধের কারণে বাদ পড়তে পারে। কারো বিরুদ্ধে যদি কোনো কনভিকশন থাকে, সেটা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত বা আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেরকম কিছু কিছু আইনি বিধান থাকে। তা না হলে পরবর্তীতে পাবলিক সার্ভিসে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, যেমন অতীতে অনেক বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ হতে আমরা দেখেছি। ধৈর্য ধারণ করার জন্য অনুরোধ করব।
মন্ত্রী বলেন, আরো একজন স্ট্যাটাস দিয়েছেন— আমি নাম নেব না, তিনিও একজন রাজনৈতিক দলের নেতা। তিনি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বিভিন্ন রকমের স্ট্যাটাস দিয়েছেন যে, ‘ভেরিফিকেশনের নামে সমস্ত অপসংস্কৃতি বন্ধ করা হোক।’ ভেরিফিকেশন একটা নিয়মিত প্রক্রিয়া; সেটা সবসময়, সব সরকারের সময় বিধি মোতাবেক করা হয়ে থাকে। কিন্তু যদি গুরুতর কোনো অভিযোগের কারণে কেউ ভেরিফিকেশনের দরুন নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য মন্ত্রণালয়ে একটা অভিযোগ বা আবেদন দাখিল করা যায়, যা তদন্ত করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এখনো সেই সময়টা আসেনি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এ সমস্ত অপপ্রচার বা অপতথ্য দিয়ে উন্মাদনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নাই। আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ করব, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করার জন্য আমাদের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের যেন উত্তেজিত না করা হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি কোনো বৈষম্য করা হবে না।
তিনি বলেন, নিয়োগপত্র ইস্যু করার জন্য প্রজ্ঞাপনের আরো সময় আছে। আগামী সোমবারে ৪৬ জনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারির দিন নির্ধারিত আছে। তার আগে কিছু প্রক্রিয়া আছে, প্রজ্ঞাপনের ফাইলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। আমি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করব। আর যারা এ সমস্ত অপতথ্য প্রচার করে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদেরকে এসব থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।