শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 11, 2026
September 09, 2026
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর

নারীদের মধ্যেও মাদক ছড়িয়ে পড়ছে : জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী

Published: September 09, 2026 at 02:06 PM
নারীদের মধ্যেও মাদক ছড়িয়ে পড়ছে : জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী বলেছেন, পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ অন্যান্য বাহিনীর হাতে তারা ধরাও পড়ছে। অনেকেই এখন মাদককে জীবিকা হিসেবে নিচ্ছে। কায়িক পরিশ্রম না করে আরাম-আয়েশে থাকতে গিয়ে নিজেদের ধ্বংস ডেকে আনছে। 

বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার রাজারামপুর হাসিনা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বালিকা বিদ্যালয়ে এই আলোচনা সভার আয়োজনের এটাই তাৎপর্য উল্লেখ করে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী আরো বলেন, একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবারের অভিশাপ। মাদকাসক্ত ব্যক্তির কারণে শুধু পরিবার নয়, সমাজ, রাষ্ট্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে দেখা গেছে, ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অনেক মা-বাবা ছেলেকে আইনের হাতে তুলে দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন। তিনি বলেন, একটি বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রে অনেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চিৎিসা নিচ্ছেন, তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে মাদকাসক্তির ভয়াবহ চিত্র। অনেকেই আছেন, যাদের বয়স মাত্র ২০ বছর। তারা স্বাভাবিক জবিনে ফিরতে পারলেও ভালো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে না। কেননা ইতোমধ্যে তাদের অনেকটাই গ্যাপ হয়েছে। 

জেলা প্রশাসক বলেন, আমাদের দেশে দেশীয় মাদক ছাড়া অন্য কোনো মাদক তৈরি হয় না। তবুও মাদকের ছড়াছড়ি। এর কারণ হচ্ছে, এই জেলা একটি সীমান্তবর্তী জেলা। অন্য দেশ থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই জেলায় মাদক প্রবেশ করে। সিন্ডিকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, আমরা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষকে মাদকের ব্যাপারে সচেতন করছি। 

জেলা প্রশাসক বলেন, মাদক একটি নীরব ঘাতক। এটি মানুষের সুন্দর জীবনকে মুহূর্তেই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। মাদক শুধু একটা জীবনকে ধ্বংস করে না, একই সঙ্গে একটি পরিবারকেও বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দেয়। এটি মানুষের স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং মনে বিষণ্নতা তৈরি করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের ভালোবাসা ও সম্মান হারায়। তিনি বলেন, পরিবার থেকে সন্তানদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে। মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। মাদকসেবীদের অধিকাংশই বন্ধুদের প্ররোচনায় বা কৌতূহলবশত মাদক সেবন শুরু করেন। মাদক সেবন করে এমন বন্ধু বা সঙ্গ পরিহার করতে হবে। হতাশা, একাকীত্ব, পারিবারিক কলহের কারণে অনেকে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়েন। মানসিক চাপ মোকাবিলায় মাদককে বেছে না নিয়ে কাউন্সেলর বা নির্ভরযোগ্য মানুষের সহায়তা নিতে হবে।

তিনি শিক্ষকদের বলেন, আপনারা খেয়াল রাখবেন, কোনো মেয়ের যেন বাল্যবিয়ে না হয়। এছাড়া তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন— তোমাদের শেখার সময় এখনই। তোমরা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে কে কী হবে তার পিলারটা এখনই শক্ত করতে হবে। কাজেই পড়াশোনায় মনোযোগী হতে হবে। 

‘মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কিশোরীদের ভূমিকা, সচেতনতা, নৈতিকতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন— চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিপ্লব কুমার মজুমদার, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান। সূচনা বক্তব্য দেন— বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর সেলিম। সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস সালাম। 

আলোচনা শেষে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও মেধাবী ছাত্রীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। শেষে মাদকবিরোধী শপথবাক্য পাঠ করান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী। 

এসময় ছাত্রীরা মাদককে লালকার্ড প্রদর্শন করেন। পরে মাদকবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।