রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেছেন, রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের চাহিদা মেটাতে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার মজুত রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে পরিমাণ সার মজুত আছে, তা জেলার মাসিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। সার নিয়ে বাইরে ছড়ানো সংকটের খবর সঠিক নয়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আসন্ন আমন ও বোরো মৌসুম সামনে রেখে সারের মজুত পরিস্থিতি দেখতে নগরের নওদাপাড়া এলাকায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সার গুদাম পরিদর্শন শেষে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার এ কথা বলেন।
মো. ইউসুফ আলী আরো বলেন, বিসিআইসির বাফার গুদামে বর্তমানে ৯ হাজার ৮০৪ টন ইউরিয়া, ৪৩০ টন টিএসপি ও ৮৫ দশমিক ৫ টন ডিএপি সার মজুত রয়েছে। অন্যদিকে বিএডিসির গুদামে রয়েছে ৬ হাজার ৩১২ টন টিএসপি, ৮০১ টন এমওপি ও ৪ হাজার ৩৪৮ টন ডিএপি সার।
ইউসুফ আলী বলেন, চলতি মাসে টিএসপি সারের বরাদ্দ ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে গুদামে মজুত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। একইভাবে চলতি মাসে জেলার জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ৫ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন হলেও একটি গুদামেই প্রায় ১০ হাজার টন ইউরিয়া মজুত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘সারের কোনো সংকট নেই। গুদামে পর্যাপ্ত সার আছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ অনুযায়ী নিয়মিতভাবে ডিলারদের কাছে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এবং তারা দোকানে বিক্রি করছেন।’
সার সংকটের আলোচনা প্রসঙ্গে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বাইরে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়ানোর কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। গুদামে সারের মজুত সবার সামনেই দৃশ্যমান। এখানে লুকানোর কিছু নেই।’
ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের যতটুকু সার প্রয়োজন, সরকারের কাছে তার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তাই সার নিয়ে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিতে ও আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন— রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেনসহ অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তাবৃন্দ।