চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অটোরিকশার জন্যই রুমন আলী (২৩)কে খুন করে নির্জন আখ ক্ষেতে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। বিক্রি করা হয় অটোরিকশাটি। গত বুধবার বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার পুটিমারি বিলের একটি আখ ক্ষেত থেকে রুমন আলীর গলিত মরদেহ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।
পুলিশ সুপার জানান, রুমন আলী পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। গত ২১ আগস্ট ভোর সাড়ে ৫টায় অটোরিকশা নিয়ে নিজ বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলার মোহনবাগ হতে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেনি। তার পালিত পিতা মো. একরামুল হক রুমনকে সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে গত ২২ আগস্ট দিবাগত মধ্য রাতে শিবগঞ্জ থানায় নিখোঁজের জিডি করেন। বিষয়টি অনুসন্ধানের জন্য এসআই সৌরভ কুমার দত্তকে দায়িত্ব দেয়া হয়।
গৌতম কুমার বিশ্বাস আরো জানান, অনুসন্ধানকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে এবং সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ২৩ আগস্ট রুমন আলী নিখোঁজের ঘটনা উদ্ঘাটনের জন্য ওয়াসিম ওরফে অসিম নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদকালে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রফিকুল আলম নামের আরেকজনকে ওই দিনই আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবদে তারা জানায়, রুমনের অটোরিকশাটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম নির্ধারণ করে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে উমর ফারুক নামের একজনের নিকট বিক্রয় করে। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উমর ফারুকের বাড়ি থেকে নিখোঁজ রুমনের ব্যবহৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা করা হয় এবং তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, রুমন আলীর অটোরিকশাটি উদ্ধারের পর তার স্ত্রী মোসা. নাজমা সুলতানা (১৯) শিবগঞ্জ থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এরপর পুলিশ আটক হওয়া ওয়াসিম ওরফে অসিম, রফিকুল আলম ও উমর ফারুককে নাজমা সুলতানার দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ওয়াসিম ওরফে অসিম নিখোঁজ ভিকটিম রুমন আলীকে হত্যা ও অটোরিকশা ছিনতাই করার বিষয়টি স্বীকার করে। এরপর পুলিশের বিশেষ টিম আসামি ওয়াসিম ওরফে অসিমকে নিয়ে রুমন আলীর মৃতদেহ উদ্ধারের জন্য অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে ২৬ আগস্ট বুধার বিকেল পৌনে ৬টায় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পুটিমারী বিলের আখ ক্ষেত হতে রুমন আলীর গলিত ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাজমা সুলতানা মৃতদেহের পরনের প্যান্ট, কোমরের প্যান্টে লাগানো বেল্ট, এক পায়ের স্যান্ডেল এবং মৃতদেহের সাথে থাকা রুমনের মোবাইল ফোন দেখে মৃতদেহটি তার স্বামী রুমন আলীর বলে শনাক্ত করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সৌরভ কুমার দত্ত মৃতদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- শিবগঞ্জ পৌরসভার সেলিমাবাদ মহল্লার মনিরুল খানের ছেলে মো. ওয়াসিম ওরফে অসিম (৩০), বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে মো. রফিকুল আলম (৩৪), বাগদুর্গাপুর কলকলিয়া গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে মো. উমর ফারুক (২৯)।
পুলিশ সুপার জানান, এদের মধ্যে মো. ওয়াসিম ওরফে অসিম ও মো. রফিকুল আলম সরাসরি হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং উমর ফারুককে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি ক্রয়ের অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।