সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৩০শে ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: September 14, 2026
August 27, 2026
জাতীয়
জাতীয়

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চায় চীন : রাষ্ট্রদূত

Published: August 27, 2026 at 12:47 PM
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে চায় চীন : রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় চীন কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

তিনি বলেন, ‘জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বাংলাদেশের এখনই সৌর বা নবায়নযোগ্য শক্তি বিকাশ করার উপযুক্ত সময়। চীন এ সেক্টরে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।’

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব মো. শহিদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেছি, যা বাংলাদেশে প্রথম এবং একমাত্র প্রকল্প। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় সবকিছু প্রস্তুত রয়েছে জেনে আমরা আনন্দিত। খুব শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। ঢাকা শহরের উন্নয়নে সহায়তা করতে এটি একটি মডেল প্রকল্প হবে।’

তিনি জানান, বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন, ভাষা শিক্ষা, দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরিতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে চীন।

ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামগ্রিক সহযোগিতার ঐতিহাসিক ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ঐতিহাসিক। চীন বাংলাদেশর পুরোনো বন্ধু। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক রাজনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর চট্টগ্রামে চীনের বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ শুরু হয়েছে। আমরা মোংলা বন্দর প্রকল্প নিয়েও কাজ করছি। এছাড়া তিস্তা নদী প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কাজ চলছে।

অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান নিয়েও কাজ চলছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিনামূল্যে বাংলাদেশী জনশক্তিকে দক্ষ করতে এবং তৃতীয় ভাষা (ম্যান্ডারিন) শেখাতে চীন তাদের বিশেষজ্ঞ পাঠিয়ে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি বলেন, ঢাকার বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্প নিয়েও আমরা কাজ করছি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছে বর্তমানে এটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত একটি বিষয়। এটি দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবিকার সাথে সম্পর্কিত। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বস্তির মানুষদের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি শহরের পরিবেশে বসবাস ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করতে চান।

চীনা রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ এরই মধ্যে এই প্রকল্পের প্রস্তাব চীনের সাথে শেয়ার করেছে এবং চীনের সহযোগিতা চেয়েছে। যেহেতু এটি দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত একটি প্রকল্প, তাই চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পাবে।

তিনি বলেন, আমরা এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেছি এবং আশা করছি, বস্তি আধুনিকীকরণ প্রকল্পের ক্ষেত্রে নিকট ভবিষ্যতে আমরা কিছু দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাবো। আমি মন্ত্রীকে পূর্ণ সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সবুজ শক্তি উন্নয়ন এবং বস্তি উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রে।