ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঙ্কিতা চক্রবর্তী। চলচ্চিত্র ছাড়াও টিভি ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজেও নিজেকে মেলে ধরেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিনয় ক্যারিয়ারে দর্শক-সমালোচকদের মুঠো মুঠো ভালোবাসা কুড়িয়েছেন। হঠাৎ ঊনচল্লিশের অঙ্কিতাকে অনাবৃত শরীরে দেখে চমকে গেলেন তার ভক্ত-অনুরাগীরা। কেবল তাই নয়, ঢের বিতর্কের মুখেও পড়েছেন ‘চরিত্রহীন’ সিরিজের এই নায়িকা। অঙ্কিতা চক্রবর্তী তার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি পোস্ট করেছেন। তাতে দেখা যায়, ঘরময় আলো-আঁধারি খেলা। বিছানায় বসে আছেন অঙ্কিতা। অনাবৃত শরীরে একটি সুতাও নেই। মাথার চুলগুলো আলগা করে ছেড়ে দেওয়া।
জানালার ফাঁক গলে আলোর রেখা গিয়ে তার মুখে থেমেছে। আর এ ছবির ক্যাপশনে অঙ্কিতা লিখেছেন-“আলো আর ছায়া।” ছবিটি দেখে অঙ্কিতার ভক্তদের যেমন চোখ ছানাবড়া, তেমনই ট্রল ও নোংরা মন্তব্যেরও শিকার হয়েছেন এই অভিনেত্রী। অনেকে ছবিটিকে ‘অশ্লীল’ বলেও মন্তব্য করেছেন। ২০১১ সালে স্টার জলসার জনপ্রিয় ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকে ‘কমলিকা’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন অঙ্কিতা। তাছাড়া ‘কখনও মেঘ কখনও বৃষ্টি’, ‘নীড় ভাঙা ঝড়’, ‘বিন্নী ধানের খই’, ‘ঝনক’ ধারাবাহিকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ২০১৪ সালে ‘ব্যোমকেশ ফিরে এলো’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় পা রাখেন অঙ্কিতা। এরপর ‘ব্যোমকেশ বঙ্ী’, ‘ব্যোমকেশ ও চিড়িয়াখানা’, ‘পর্ণমোচি’, ‘আলেয়া’, ‘কাদম্বরী আজও’, ‘কিরিটি রায়’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করেন অঙ্কিতা।
২০১৮ সালে ‘চরিত্রহীন’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে ওয়েব দুনিয়ায় পা রাখেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী। এটি ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে মুক্তি পায়। ২০২১ সালে ‘হাই তাওবা’-এর মাধ্যমে হিন্দি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ওয়েব সিরিজগুলো হলো-‘বৃত্ত’, ‘মাফিয়া’, ‘সেভেন’ ‘পবিত্র পাপিজ’ প্রভৃতি। কেবল নগ্ন ছবি নয়, গত মে মাসে ‘অভিশপ্ত নাইটি’খ্যাত পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ তুলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন অঙ্কিতা চক্রবর্তী। সংবাদ সম্মেলনে অঙ্কিতা জানান, ২০২০ সালে দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘পবিত্র পাপীজ’ সিরিজে অভিনয় করেন অঙ্কিতা। ২০২১ সালে সিরিজটির সাকসেস পার্টিতে দেবালয় তাকে জোর করে চুম্বনের চেষ্টা করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালককে আইনি নোটিস পাঠান বলেও জানান তিনি। ২০২২ সালে দীর্ঘদিনের বন্ধু ও অভিনেতা প্রান্তিক ব্যানার্জির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন অঙ্কিতা চক্রবর্তী। পাহাড়ে এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সাতপাকে বাঁধা পড়েন তারা। ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা দেন এই যুগল।