রবিবার ০৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৫শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৪ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই, বন্ধ তিন বিভাগের সেবা নাচোলে ঈদগাহ ও গোরস্থানের উন্নতি কল্পে আলোচনা সভা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে সারের জন্য ভোর থেকেই কৃষকের লাইন শিবগঞ্জে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় এমপি কেরামত আলীর শিবগঞ্জ বিজিবি’র অভিযানে জব্দ নেশাজাতীয় সিরাপ, গ্রেপ্তার একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জে শ্বাসকষ্ট নিয়ে আরো ৩ শিশু হাসপাতালে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ৫৫ রোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহভাজন ১ জন শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা, মহানন্দা ও পুনভর্বার নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত
Printed on: August 09, 2026
June 01, 2026
লাইফস্টাইল
লাইফস্টাইল

মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?

Published: June 01, 2026 at 10:44 AM
মানসিক চাপ ও ক্লান্তি দূর করতে দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?

সকালের এক কাপ গরম কফি শুধু যে আমাদের ঘুম তাড়ায় তা নয়, এটি আমাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে| কিন্তু কফি কি সত্যিই মানসিক চাপ কমাতে পারে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, কফি পানের অভ্যাসের সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যের একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে| তবে এর সুফল পেতে হলে জানতে হবে ঠিক কতটুকু কফি আপনার জন্য আদর্শ| ‘জার্নাল অফ অ্যাফেক্টিভ ডিজঅর্ডারস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, পরিমিত কফি পান করলে মানসিক চাপ এবং মেজাজ বা মুড সংক্রান্ত সমস্যাগুলো অনেকটাই কমে আসে| গবেষকদের মতে, দিনে ২ থেকে ৩ কাপ কফি পান করা হলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য আদর্শ বা ‘সুইট স্পট’| এই পরিমাণ কফি পানে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো সমস্যার ঝুঁকি সবচেয়ে কম থাকে| 


অতিরিক্ত পানে হিতে বিপরীত

অনেকেই মনে করেন বেশি কফি মানেই বেশি সতেজতা| কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ৩ কাপের বেশি কফি পান করলে এর সুফল আর পাওয়া যায় না, বরং তা শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে| অতিরিক্ত কফি পানে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, অস্থিরতা বাড়ে এবং উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে| গবেষকরা একে একটি ÔJ-shapedÕ  সম্পর্কের সাথে তুলনা করেছেন, অর্থাৎ কফি পানের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হয়ে গেলেই এর উপকারিতা কমতে শুরু করে|


শুধু ক্যাফিন নয়, কারণ আরও আছে

মজার ব্যাপার হলো, ক্যাফিনমুক্ত বা ‘ডিক্যাফ’ কফি পানের ক্ষেত্রেও মানসিক প্রশান্তির একই ধরনের ফলাফল দেখা গেছে| এর থেকে বোঝা যায় যে, কফির এই গুণটি কেবল ক্যাফিনের জন্য নয়, বরং এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বা অন্যান্য  জৈব উপাদানের কারণেও হতে পারে| পুষ্টিবিদদের মতে, কফি পান করার যে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম বা সামাজিক প্রেক্ষাপট থাকে, সেটিও মন ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে| বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে বা কাজের ফাঁকে একটু বিরতি নিয়ে কফি পান করা আমাদের ˆদনন্দিন জীবনে একটি শৃঙ্খলা ও প্রশান্তি আনে|


সতর্কতা ও ব্যক্তিগত সহনশীলতা

কফি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করলেও এটি কোনো মানসিক রোগের বিকল্প চিকিৎসা নয়| বিষণ্নতা বা উদ্বেগের চিকিৎসার জন্য কফির ওপর নির্ভর করা উচিত নয়| এছাড়া প্রত্যেকের ক্যাফিন সহ্য করার ক্ষমতা আলাদা| কারো জন্য ২ কাপ কফি খুব ভালো কাজ করে, আবার কারো জন্য সেই একই পরিমাণ কফি অস্থিরতার কারণ হতে পারে|


মনে রাখা জরুরি

কফি আপনার জীবনযাত্রার একটি স্বাস্থ্যকর অংশ হতে পারে, তবে এটিই শেষ কথা নয়| মানসিক চাপ কমাতে কফি পানের পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যতালিক এবং নিয়মিত শরীরচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম| কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন, কারণ এই উপাদানগুলো গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল না| তাই দিনভর চনমনে থাকতে এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম মেনে ২ থেকে ৩ কাপ কফিতেই সীমাবদ্ধ থাকার চেষ্টা করুন|