রবিবার ১০ মে ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৭শে বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি
LIVE
Printed on: May 10, 2026
May 10, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় ১৫ জন পুলিশ নিহত

Published: May 10, 2026 at 12:06 PM
পাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় ১৫ জন পুলিশ নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার (কেপি) বান্নু জেলায় আত্মঘাতী হামলায় অন্তত ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত শনিবার গভীর রাতে ফতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়িতে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ঢ়ুকিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় ফাঁড়িটিতে মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ১৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন অপর তিনজন। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পরপরই হামলাকারীরা চারদিক থেকে ফাঁড়িটি ঘিরে ফেলে এবং ভারী গুলিবর্ষণ শুরু করে। এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ভীতির সৃষ্টি করে। বান্নুর এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, হামলার সময় সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্রের পাশাপাশি কোয়াডকপ্টারও ব্যবহার করেছে। সূত্রগুলো জানায়, হামলার পর কিছু সময়ের জন্য ফতেহ খেল পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে যায় পুরো পুলিশ ফাঁড়িটি। সেখানে থাকা একটি সাঁজোয়া যানও বিধ্বস্ত হয় ওই হামলায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আশপাশের ভবনগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে। হামলার পর পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদ খানের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে বান্নু পুলিশ। নিরাপত্তা বাহিনী ঘিরে ফেলে পুরো এলাকা। একই সঙ্গে শহরজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং স্থাপন করা হয় অতিরিক্ত তল্লাশি চৌকি। গতকাল সকালে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান শেষ করে। উদ্ধারকারী সংস্থা রেসকিউ ১১২২ জানায়, ‘উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৫টি মরদেহ এবং তিনজন আহতকে উদ্ধার করা হয়েছে।’ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বান্নু জেলায় একের পর এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সহিংস ঘটনার পর এই হামলার ঘটনা ঘটল। জেলায় বেসামরিক নাগরিক ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। পুলিশ ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী জিরগা সদস্যদের ওপর হামলাসহ বিভিন্ন সহিংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসছে নিরাপত্তা বাহিনী।