আনন্দ ও বিষাদের মিশ্র অনুভূতিতে প্রতিবছরের মতো এবারো শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। মর্ত্যলোক ছেড়ে দেবী দুর্গার কৈলাসে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হলো ছয় দিনের এই আনন্দযজ্ঞ।
বিজয়া দশমীর মূল আকর্ষণ ছিল দেবীর বিদায় ও সিঁদুর খেলা। বিবাহিত নারীরা দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর নিজেরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়, যা আনন্দ ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়। দেবী দুর্গাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে-অপরকে সিঁদুরে রাঙান, নাচ-গান করেন, যেন সারা বছর এমন আনন্দ থাকে। শিশু-কিশোর যুবক-যুবতী থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন।
বুধবার বিকেল থেকে একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে বিষাদের সুর আর চোখের জলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানিয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। শাস্ত্রীয় মতে, দোলায় চড়ে মর্ত্যলোকে এসেছিলেন মহামায়া দেবী দুর্গা আর নৌকায় চড়ে এবার ফিরে যান কৈলাসে।
জেলাশহরের বেশির ভাগ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন হয় বারঘরিয়া ও হুজরাপুর এলাকার মহানন্দা নদীতে। সন্ধ্যার পর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিমা বিসর্জন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এছাড়া সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয় পদ্মা নদীতে। নচোল উপজেলার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেয়া হয় বিভিন্ন পুকুরে।
শেষবারের মতো দেবী মাকে দর্শন ও বিদায় দেয়ার জন্য মণ্ডপগুলোতে ভিড় জমান ভক্তরা। আগামী শরতে আবার বাঙালি হিন্দুর ঘরে ঘরে মা দুর্গা ফিরে আসবেন, সে কামনায় অপেক্ষায় থাকবেন ভক্তরা। এছাড়া ঢাক, ঢোল, করতাল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রসহ শোভাযাত্রায় যোগ দেয় বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ-শিশু-কিশোর। বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিমা নিয়ে যোগ দিতে থাকেন ভক্তরা।
প্রতিমাগুলো ট্রলি, রিকশাভ্যান ও পিকআপে করে ঘাটে নিয়ে আসার পর শেষবারের মতো ধূপধুনো নিয়ে আরতিতে মেতে ওঠেন ভক্তকুল। আর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গাপূজা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার ১৬৪টি মণ্ডপে এই পূজা অুনষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৬১টি, শিবগঞ্জ উপজেলায় ৫১টি, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৩২টি, নাচোল উপজেলায় ১৭টি ও ভোলাহাট উপজেলায় ৩টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা।