স্বৈরাচার ও কিছু দল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে কিছু দল নানা কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছেন, তখন এসব অপতৎপরতা দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
মঙ্গলবার রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কিছু দল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। জনগণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কর্মসূচি যারা দেয়, তারা জনগণের বন্ধু হতে পারে না। জনগণের উন্নয়ন হচ্ছে— এটি কিছু দল সহ্য করতে পারছে না। তারা চায় না, সরকারের নেয়া জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়িত হোক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে যারা টিকিট বিক্রি করেছিল, তারা এবং সীমান্তের ওপারে থাকা পলাতক শক্তি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এক হয়েছে। জনগণের উন্নয়ন যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, একটি দল ১৯৭১ সাল থেকে যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে ভিন্ন পথে নেয়ার চেষ্টা করেছে। ১৯৭১ সালে যেমন ধোঁকা দিয়েছে, ২০২৪ সালেও তেমন ধোঁকা দিয়েছে। অনেকে মুখে ২০২৪ সালের চেতনাকে ধারণ করার কথা বললেও অন্তরে তা ধারণ করে না।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান— দুটিকেই ধারণ করে। যারা দেশ গড়ার নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা দেশকেও বিশ্বাস করে না। দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদের ভাগ্য নিজেদেরই গড়তে হবে।
আগামী পাঁচ বছর জনগণকে বিএনপি সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে যেভাবে জনগণ পাশে দাঁড়িয়েছিল, আগামী দিনগুলোতেও সেভাবে সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
জনসভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের ৩৮ হাজার আখচাষিকে আর্থিক প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। এ কারণে কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান পরিবর্তনে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, চলতি বছরে ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষক কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। গত আট মাসে সারাদেশে ৮০০ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের কাছে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সারাদেশের উপজেলা হাসপাতালগুলোর শয্যাসংখ্যা ৫০ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
শিল্প খাতের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে তিনি বলেন, আগামী বছর ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালু করা হবে। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন, কৃষি ও শিল্পের বিকাশ এবং দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়া। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।
দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সরকার কাজ করছে। এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
জনসভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের পরিচালনায় জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন— দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, শফিকুল হক মিলন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনসহ আরো অনেকে।
এছাড়া অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ; বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম এমপি; সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবীবা; কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন।
এদিকে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে পৌঁছালে মন্দির কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান।
এ সময় তিনি পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন— রাজশাহী ধর্মসভার সভাপতি অধ্যাপক বিশ্বনাথ সরকার, সহসভাপতি অচিন্ত কুমার বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, কোষাধ্যক্ষ অশোক কুমার সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক সুব্রত রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দেবনাথ, দপ্তর সম্পাদক আকাশ কুমার দাস, প্রচার সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ, যুগ্ম সম্পাদক সুকুমার সরকার, মহেন্দ্র চন্দ্র সরকার ও সনৎ কুমার সাহা।
এ সময় আরো ছিলেন— সহ-কোষাধ্যক্ষ দেবাশীষ রায় মধু, ধর্মসভা মন্দিরের পুরোহিত বিদ্যুৎ কুমার মজুমদার, সহকারী পুরোহিত মুয়াজ মজুমদার এবং সেবাইত ড. শিখা সরকার ও সমমিতা বিশ্বাস।
পরে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আয়োজিত মতবিনিময় সভায় যোগ দেন।
সভা থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পূজা উদ্যাপন ফান্ড গঠন ও মন্দির স্থাপনের দাবি জানানো হয়। এছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্যাপনে সরকারের পক্ষ এ বছর থেকে অধিক অনুদান প্রদান ও সহযোগিতা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী ধর্মসভা মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর।