বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৩শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
ডেঙ্গু নিধনে অভিযান অব্যাহত আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশু অধিকার দিবস ও শিশু অ্যাকাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব শিশু সপ্তাহ উদযাপন ও ডেঙ্গু সচেতনতামূলক আলোচনা চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ৮২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদামতো টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের আমানতকারীরা ৩৬.১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জীবন ও নিরাপত্তার স্বার্থে এখনই পানি ব্যবস্থাপনা জরুরি : এলজিআরডি মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে : রাষ্ট্রপতি
Printed on: October 08, 2026
October 08, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়াল তৃতীয় সপ্তাহে

Published: October 08, 2026 at 12:53 PM
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন গড়াল তৃতীয় সপ্তাহে

শিক্ষকদের ঘাটতি ও জীর্ণ স্কুল ভবন সংস্কারের সুনির্দিষ্ট কোনো আশ্বাস না পাওয়ায় ফ্রান্সে তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ ও স্কুল অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবারও দেশজুড়ে বিভিন্ন হাইস্কুল অবরুদ্ধ করে রাখা হয় ও নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। জনসেবার মান উন্নয়ন এবং অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি কমাতে বন্ড বাজারের চাপে থাকা অর্থসংকটে জর্জরিত ফরাসি সরকারের জন্য এই আন্দোলন এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। 


সহিংসতা ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এখন পর্যন্ত শত শত গ্রেপ্তার ও ডজনখানেক আহতের ঘটনা ঘটেছে। স্কুল শিক্ষার্থীদের ওপর দাঙ্গা পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত বুধবার বিক্ষোভ দমনে স্টান গ্রেনেডের ব্যবহার সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে সরকার। তবে প্যারিসের শ্রমজীবী এলাকার লিসে হেলেন-বুশে হাইস্কুলসহ বিভিন্ন স্কুলে ময়লার ঝুঁড়ি দিয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যারিকেড ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে। 


রাজনৈতিক অঙ্গনে মেরুকরণ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁখোর মেয়াদের শেষ ছয় মাস বাকি থাকতেই এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ফরাসি রাজনীতিতে শুরু হয়েছে মেরুকরণ। কট্টর-ডানপন্থি নেত্রী মারিন লে পেন বিক্ষোভের সময় স্কুলগুলোতে ভাঙচুরের তীব্র সমালোচনা করে এর জন্য বিক্ষোভকারী ও তাদের অভিভাবকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলেছেন। কট্টর-বামপন্থি নেতা জ্য-ল্যুক মেলেশো প্যারিসের বিক্ষোভে যোগ দিয়ে শিক্ষার্থীদের ‘অবিশ্বাস্য’ বলে প্রশংসা করেন। একইসঙ্গে তিনি পুলিশি নৃশংসতার কড়া নিন্দা জানান। ইলাবের এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ৭২ শতাংশ ফরাসি নাগরিক শিক্ষার্থীদের দাবিকে ন্যায়সঙ্গত মনে করলেও ৫৫ শতাংশ মনে করছেন এবার বিক্ষোভ থামানো উচিত। 


সরকারের অবস্থান

প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে চলতি মাসের শেষের দিকে ‘সুনির্দিষ্ট, দ্রুত ও সম্পূর্ণ অর্থায়নকৃত পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বিবরণ দেননি। অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর বিবিসিকে বলেন, “নেতা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বিক্ষোভকারীদের কথা শোনা।”এদিকে পরিস্থিতি শান্ত করার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রথম দুই দিনেই শিক্ষার্থীদের ৪৩ হাজারেরও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। তবে সরকারের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট না হয়ে আগামী ১৭ অক্টোবর আরো বড় আকারের বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো। শুধু ফ্রান্স নয়, একই ইস্যুতে বুধবার বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালেও শিক্ষার্থী বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে সংঘাতের জেরে আগামী ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত তিন জনের বেশি মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা