মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২১শে আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
আমার মেয়ের ডেঙ্গু রোগ ও আমার অজ্ঞতা, প্রত্যাশা ‘জনসচেতনতা’ পূজা উদযাপন পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় পুলিশের ডেঙ্গু নিধনে জেলা প্রশাসন গঠিত টিমের অভিযান অব্যাহত চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ৭৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গুতে মৃত্যু এক ব্যবসায়ীর শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের চিন্তা করবে সরকার : তথ্য উপদেষ্টা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে বিদ্যালয় পরিদর্শনের নির্দেশ ঢাকায় পদায়নে লটারির মাধ্যমে মনোনীত ১৮ সাব-রেজিস্ট্রার জনগণের সেবা করাই নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব : এলজিআরডি মন্ত্রী
Printed on: October 06, 2026
October 06, 2026
জাতীয়
জাতীয়

শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

Published: October 06, 2026 at 01:04 PM
শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ দিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো প্রতিভা রয়েছে। তাদের সেই প্রতিভা বিকাশে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি, সংগীত ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুর মধ্যে কোনো না কোনো গুণ রয়েছে। আমাদের দরকার শুধু তাকে সেই সুযোগটি করে দেওয়া, যার মাধ্যমে সে নিজেকে বিকশিত করতে পারে।’

মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস-২০২৬ এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবারের আয়োজনের প্রতিপাদ্য— ‘শিশুর ভবিষ্যৎ হোক সুরক্ষিত’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিশুরা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শিশুরা সঠিকভাবে বেড়ে উঠলে পরিবারের পাশাপাশি দেশের ভিত্তিও শক্তিশালী হবে। আমাদের সকল শিশুকে সঠিকভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে পারলে আমাদের দেশের ভিত্তিটা অনেক মজবুত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিশুদের যথাযথভাবে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে তারা প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে এবং একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু লেখাপড়ায় ভালো হলেই হবে না।  খেলাধুলা, শিল্প, সংস্কৃতি ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেও ভালো করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি তোমাদের আজ পড়ালেখার কথা বলব না। আমি বলব, তোমাদের খেলাধুলা করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো শিশু ভালো ছবি আঁকতে পারে, কেউ কবিতা আবৃত্তি করতে পারে, কেউ গান বা বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পছন্দ করে, আবার কেউ নাচ কিংবা কোরআন তেলাওয়াতে পারদর্শী। প্রত্যেক শিশুকে তার পছন্দ ও আগ্রহ অনুযায়ী নিজেকে বিকশিত করার সুযোগ দিতে হবে।’

তারেক রহমান বলেন, শিশুদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি খেলাধুলার ক্ষেত্রেও সরকার সুযোগ সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণে দেশব্যাপী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায় থেকে প্রায় ২২ লাখ শিশু (১১ লাখ ছেলে ও ১১ লাখ মেয়ে) ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে।’ এই উদ্যোগ অব্যাহত রাখা গেলে তাদের মধ্য থেকেই একদিন আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শিশুদের সাংস্কৃতিক প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি চালু করেছিলেন। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগের পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার বিকাশেও নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার চায় প্রতিটি শিশু শিল্প, সংস্কৃতি, সংগীত ও খেলাধুলার ক্ষেত্রে অন্তত একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাক।’

তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুরাও যেন এসব সুযোগ পায়, সে জন্য স্কুলপর্যায় থেকেই আর্ট, কালচার, স্পোর্টস ও মিউজিকের সুযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি।

এ কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রস্তুতি অনেকটা এগিয়ে নেয়া হয়েছে এবং ২০২৭ বা ২০২৮ সাল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুকে তার পছন্দ অনুযায়ী গান শেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে একটি বেছে নেয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।

ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা বিবেচনায় শিশুদের বিদেশী ভাষা শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আরবি, ম্যান্ডারিন, জার্মান ও জাপানিসহ বিভিন্ন বিদেশী ভাষা শেখার সুযোগ শিশুদের জন্য সৃষ্টি করা হবে। ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের জন্য যারা বিদেশে যাবে, তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা জানা অত্যন্ত সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে অন্য দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাড়তি সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।’

শিশুদের মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পড়াশোনা, খেলাধুলা, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা একাধিক ভাষা জানলেই একজন মানুষ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে মানবিক হতে হবে। তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে মানবিক হতে হবে। এই দেশের প্রকৃতি, পশুপাখির প্রতিও তোমাদের মানবিক হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার এমন একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে মানুষ শুধু মানুষের প্রতিই নয়, প্রকৃতি ও প্রকৃতির সৃষ্টির প্রতিও সদয় হবে।’

তিনি শিশুদের গাছপালা ও পশুপাখির যত্ন নেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি গাছকে শিশুর মতো যত্ন করে বড় করে তুলতে হবে। একইভাবে আশপাশের পশুপাখির প্রতিও সহানুভূতিশীল হতে হবে। আমরা যদি প্রকৃতির প্রতি সদয় হই, অবশ্যই প্রকৃতিও আমাদের প্রতি সদয় হবে।’

পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে শিশুদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। কোনো বড় মানুষকে যত্রতত্র ময়লা ফেলতে দেখলে বিনয়ের সঙ্গে তাকে সঠিক স্থানে ময়লা ফেলার কথা বলতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তুমি ছোট হিসেবে তাকে বলতে পারো— ময়লাটি সঠিক জায়গায় ফেলুন। আপনি যদি পরিবেশ নষ্ট করেন, তাহলে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হবো। আমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে বাংলাদেশের লাখো-কোটি শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।’

অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্তানদের মধ্যে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলার দায়িত্ব সবার। ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালালে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর, মানবিক ও শক্তিশালী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশুদের পরিবেশনায়  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।  পরিবেশনায় অংশ নেয়া শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেন তিনি। এ সময় শিশুদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর শিশুদের আঁকা ছবি ও ফটো গ্যালারি পরিদর্শন করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী শিশু জাদুঘর ভবনে যান এবং ভবনের নিচতলায় সোলার প্যানেল ও সাব-স্টেশন উদ্বোধন করেন।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে পৌঁছালে ১৫০ শিশু তাঁকে বরণ করে নেয়। পরে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন— প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান ডা. জুবাইদা রহমান।