দেশের প্রেক্ষাগৃহে এখনো মুক্তি পায়নি রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিত পরিচালিত সিনেমা ‘মাস্টার’। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও বড় স্বীকৃতি পেল বাংলাদেশের এই সিনেমা। ইতালির ২২তম লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে ‘মাস্টার’। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ খবর জানান নির্মাতা নিজেই।
পুরস্কার জয়ের পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে সুমিত লিখেছেন, তাসকানি থেকে আসা এই খবর তাদের জন্য বিশেষ আনন্দের। তার ভাষায়, লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতা ‘মাস্টার’-এর গল্পের সর্বজনীনতা ও প্রাসঙ্গিকতার আরেকটি প্রমাণ।
পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের প্রতিযোগিতা বিভাগে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কয়েকটি সিনেমার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে ‘মাস্টার’কে। এমন শক্তিশালী প্রতিযোগিতার মধ্য থেকে সিনেমাটিকে সেরা হিসেবে বেছে নেওয়ায় জুরি বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সুমিত। একই সঙ্গে নিজের পুরো কলাকুশলী দলের কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন তিনি।
এবারের লুক্কা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের জুরি বোর্ডে ছিলেন অস্কারজয়ী কস্টিউম ডিজাইনার ফ্রাঙ্কা স্কুয়ার্সিয়াপিনো, লিথুয়ানিয়ান পরিচালক ও প্রযোজক শারুনাস বার্তাস এবং ইতালীয় অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার মিকেলে রিওনদিনো।
‘মাস্টার’কে পুরস্কার দেওয়ার কারণও ব্যাখ্যা করেছে জুরি বোর্ড। তাদের মতে, স্থানীয় একটি গল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র যে সংকটের মুখে পড়েছে, তা অসাধারণভাবে তুলে ধরেছে সিনেমাটি।
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন একজন আদর্শবান শিক্ষক। তিনি সৎ পথে চলতে চান এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতি দায়বদ্ধ। তার সততা ও আদর্শ সমাজে পরিবর্তন আনতে পারত। কিন্তু ব্যক্তিস্বার্থকে সাধারণ মানুষের কল্যাণের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থার জটিলতায় সেই আদর্শ বাধাগ্রস্ত হয়। শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির কাছে তার নতি স্বীকারের মধ্য দিয়ে বাস্তবতার তিক্ত একটি দিকও তুলে ধরা হয়েছে।
জুরি বোর্ডের মূল্যায়নে, সূক্ষ্ম ও বুদ্ধিদীপ্ত চিত্রনাট্য এবং সাবলীল গতির মাধ্যমে প্রধান চরিত্রের নানা দ্বন্দ্ব ও বৈপরীত্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। একটি স্থানীয় গল্পকে বৃহত্তর বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করতে পারার বিষয়টিকেই সিনেমাটির অন্যতম শক্তি হিসেবে দেখেছে জুরি।
লুক্কার এবারের আসরে বিশ্ব চলচ্চিত্রের পরিচিত বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্বও ছিলেন। ইতালীয় নির্মাতা নান্নি মোরেত্তি এবং মার্কিন চিত্রশিল্পী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জুলিয়ান শ্নেবেলকে দেওয়া হয়েছে আজীবন সম্মাননা। অন্যদিকে পরিচালক নিকোলাস উইন্ডিং রেফনের নতুন সিনেমা ‘গোল্ডেন প্যান্থার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও জায়গা করে নিয়েছে ‘মাস্টার’। রটারড্যাম চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়ে সিনেমাটি আন্তর্জাতিক দর্শক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনায় আসে। এবার লুক্কায় সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার সেই যাত্রায় যোগ করল আরও একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।
তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে একের পর এক স্বীকৃতি পেলেও বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এখনো সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে দেখার সুযোগ তৈরি হয়নি। ‘মাস্টার’ দেশে মুক্তির অনুমতি পায়নি। অনুমতি পাওয়া গেলে সিনেমাটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
‘মাস্টার’-এর নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাসির উদ্দিন খান। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম, ফজলুর রহমান বাবু, শরীফ সিরাজ, তাসনোভা তামান্না, আমিনুর রহমান মুকুল, মাহমুদ আলমসহ অনেকে।
বিদেশের উৎসবে পুরস্কারের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, দেশের দর্শক কবে বড় পর্দায় দেখতে পাবেন ‘মাস্টার’? আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতির পর সেই অপেক্ষা আরও বেড়েছে।