শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৭ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ স্বাস্থ্য সচিবের চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২৫ দুস্থের মধ্যে আড়াই লাখ টাকার চেক বিতরণ শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হওয়ায় কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন পুলিশ সুপারের চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে আরো ৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত : ছাড়পত্র ২৬ জনকে, ভর্তি রোগী ১২৮ জন সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন : ভারতে যাওয়ার সময় যুব মহিলা লীগ নেত্রী আটক বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে : যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিবেদন অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে : ভোলায় সাংবাদিকদের স্পিকার
Printed on: October 23, 2026
September 03, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

তীব্র তাপপ্রবাহে জার্মানিতে রেকর্ড ১৬৩০০ মানুষের মৃত্যু

Published: September 03, 2026 at 01:20 PM
তীব্র তাপপ্রবাহে জার্মানিতে রেকর্ড ১৬৩০০ মানুষের মৃত্যু

ইউরোপজুড়ে তীব্র গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহের মধ্যে জার্মানিতে তাপজনিত কারণে রেকর্ড ১৬ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জার্মানির সরকারি জনস্বাস্থ্য সংস্থা রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এই অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর আগে গত সপ্তাহে সংস্থাটি ১৫ হাজার ৮০০ তাপজনিত মৃত্যুর হিসাব দিয়েছিল। সর্বশেষ হিসাবে আরো এক সপ্তাহের তথ্য যুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাপজনিত মৃত্যুর সবচেয়ে বড় অংশ ঘটেছে ৭৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের হিসাব বলছে, শুধু ২২ থেকে ২৮ জুন, এই এক সপ্তাহেই প্রায় ৯ হাজার ৬০০ মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে গত এক দশক ধরে তাপজনিত মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ করছে রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট। সংস্থাটির আগের সর্বোচ্চ হিসাব ছিল ২০১৮ সালে, যখন প্রায় ৮ হাজার ৯০০ মানুষের তাপজনিত মৃত্যু হয়েছিল। তবে চিকিৎসাবিষয়ক একটি পৃথক প্রকাশনায় ১৯৯৪ সালে জার্মানিতে প্রায় ১০ হাজার তাপজনিত মৃত্যুর অনুমান করা হয়েছিল। এদিকে ইউরোপজুড়ে পরপর তাপপ্রবাহ ও খরার কারণে বিভিন্ন দেশে ৩০ হাজারের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বিজ্ঞানীরা এসব চরম তাপপ্রবাহের প্রবণতার সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করছেন।

বেলজিয়াম

বেলজিয়ামে এবারের গ্রীষ্মে দীর্ঘ তাপপ্রবাহের কারণে প্রায় ৩ হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির জনস্বাস্থ্য সংস্থা সিয়েন্সানো  বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুন থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত তাপপ্রবাহের সময় বেলজিয়ামে মোট ২ হাজার ৯৩৫টি অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় মৃত্যুহার ২২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি ছিল। এর মধ্যে ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ। এই সময়ে অতিরিক্ত ২ হাজার ৩৫ জনের মৃত্যু হয়, যা প্রত্যাশিত মৃত্যুহারের চেয়ে ৪৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। ১৮ জুন থেকে টানা ১০ দিন দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা প্রায় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল। এর মধ্যে তিন দিন তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। একই সময়ে রাতের তাপমাত্রাও অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল। সিয়েন্সানো জানিয়েছে, ২০০০ সালে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর হিসাব রাখা শুরু করার পর ১৮ জুন থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত সময়টিতে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বেলজিয়ামে পরবর্তী দুটি তাপপ্রবাহেও অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ৪ থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ৫৩৫ জন এবং ২৮ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত আরো ৩৬৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে। তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষ। তবে সিয়েন্সানো জানিয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মানুষের মধ্যেও দেখা যায়। এদিকে চলতি গ্রীষ্মে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একাধিক তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। জাতিসংঘের আবহাওয়া সংস্থা গত মাসে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বজুড়ে চরম তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন, তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হয়ে উঠছে।