বুধবার ১২ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২৭ সফর ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
শিরোনাম
গোমস্তাপুরে সারের দাবিতে কৃষকের বিক্ষোভ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে করণীয় নির্ধারণে মতবিনিময় জেলা প্রশাসনের চাঁপাইনবাবগঞ্জে লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ শিক্ষার্থীদের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সরকারি খরচায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭২ মামলায় আইনি সহায়তা প্রদান রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো : রুহুল কবির রিজভী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি : তথ্যমন্ত্রী দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত ১, অ্যাম্বুলেন্স ক্ষতিগ্রস্ত জিম্বাবুয়েতে ফেরি ডুবে ১৫ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ২৭ এবার নতুন রূপে দেখা যাবে মাধুরীকে
Printed on: August 12, 2026
August 12, 2026
জাতীয়
জাতীয়

রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো : রুহুল কবির রিজভী

Published: August 12, 2026 at 01:05 PM
রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত  ছিলেন কোকো  : রুহুল কবির রিজভী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন ক্রীড়া সংগঠক।

ক্রীড়ার উন্নয়নে তার অবদান স্মরণ করে রিজভী বলেন, ক্রীড়ার জন্য তিনি যে কাজগুলো করেছেন, সেটা হচ্ছে যারা ক্রীড়াবিদ হবে, এটাই তার পেশা হবে, এটা দিয়েই তার জীবন-জীবিকা হবে, এই ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র করবে, সরকার করবে।

বুধবার আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো তার জীবনে রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থেকে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ক্রীড়ার উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি চেয়েছেন ক্রীড়াবিদরা যাতে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকার করবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে এবং এর মাধ্যমে কোকোর ক্রীড়া ক্ষেত্রে অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

রিজভী বলেন, আজকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এখানে আছেন। আমি মনে করি, তিনি অত্যন্ত যোগ্য ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। এখানে তার যে কাজগুলো, সেই কাজগুলো সুসম্পন্ন করবেন। এটা সুসম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।

মরহুম কোকোর স্মৃতি স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, কোকো হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মরদেহ দেশে আনার সময় তার মা বেগম খালেদা জিয়া বন্দি ছিলেন। তাকে বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল।

‘ওই পরিস্থিতিতে মায়ের কোলে সন্তানের লাশ তুলে দেওয়া ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা। পৃথিবীর সব বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের কোলে সন্তানের লাশ- এটি ছিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ,’ বলেন তিনি।

রিজভী অভিযোগ করেন, জনগণের মধ্যে জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো বরদাশত করতে পারেননি। তাই তাঁর পরিবারকে একের পর এক যন্ত্রণা দিয়েছেন। তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার এই পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত করতে এবং জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা মুছে ফেলতে বিভিন্নভাবে হয়রানি, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছিল। একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এসব করা হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কারণে তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই সন্তানও বিভিন্ন সময়ে বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অথচ আজ কি হয়েছে? জনগণের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে শেখ হাসিনাকে। সেই তারেক রহমান, শহীদ জিয়া এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র আজ দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনকল্যাণের সব যে কাজ, সেই কাজগুলো একের পর এক ক্ষমতা নেয়ার দুই-তিন দিনের মধ্যে থেকেই বা শুরু থেকেই তিনি বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন। এবং তার এ কার্যক্রম চলমান থাকবে।

জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, সেই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান। মুগ্ধ, ওয়াসিম আকরাম, আবু সাঈদ, আহনাফসহ যারা আত্মদান করেছেন, তাদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগ মহিমান্বিত। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পেছনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরও রক্ত ও আত্মত্যাগ রয়েছে।

রিজভী আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করা এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের অবদানকে মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। এ ধরনের প্রচেষ্টা জনগণের কাছে প্রশ্ন তৈরি করছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ যে কোনো মূল্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করবে।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু এবং বিএনপি নেতা কামাল জামাল মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।