ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে হাত হারানো শিশু নাঈম হাসান নাহিদ ৬ বছরের আইনি লড়াইয়ে অবশেষে ক্ষতিপূরণের ৩০ লাখ টাকা পেলেন|
আগে দুই ধাপে মোট ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার পর সোমবার ওয়ার্কশপ মালিক অবশিষ্ট ১৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বুঝিয়ে দেন বলে জানান শিশু নাঈমের পক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক|
আইনজীবী বলেন, নাঈমের বয়স ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে দেওয়ার যে আদেশ তা বাস্তবায়ন করতে হবে| সেজন্য এই মামলার বিষয়টি আপাতত মুলতুবি রাখা হয়েছে|
নাঈমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামে| তার বাবা নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার পেশায় জুতা ব্যবসায়ী| কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে কিশোরগঞ্জের ˆভরবে বাস করছিলেন তিনি|
করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হলে আনোয়ার কর্মহীন হয়ে পড়েন| সংসারের চাপ সামলাতে নাঈমকে তার মা-বাবা ˆভরবের একটি ওয়ার্কশপে কাজের জন্য রাখেন| ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টে¤^র ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়ে নাঈমের ডান হাত ড্রিল মেশিনে ঢুকে যায়| পরে শিশুটিকে বাঁচাতে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কনুই থেকে ডান হাত বিচ্ছিন্ন করেন|
নাঈমের হাত হারানোর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে ২০২০ সালের ডিসে¤^রে তার বাবা মো. নিয়ামুল হোসেন আনোয়ার হাইকোর্টে রিট করেন| সেই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ ডিসে¤^র হাইকোর্ট রুল জারি করেন| একপর্যায়ে রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন| রায়ে হাইকোর্ট শিশু নাঈমের নামে ১৫ লাখ টাকা করে ১০ বছর মেয়াদে দুটি ফিক্সড ডিপোজিট করে দিতে ওয়ার্কশপের মালিক ইকবাল হোসেন ইয়াকুবকে নির্দেশ দেন| একই সঙ্গে নাঈমের পড়ালেখার খরচ হিসেবে প্রতি মাসে ৭ হাজার টাকা করে তার ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়|
তবে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ওয়ার্কশপ মালিক ইয়াকুব হোসেন লিভ টু আপিল করেন| সেই লিভ টু আপিল খারিজ করে দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ| ফলে নাঈমকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকে|