পুরো ম্যাচের একের পর এক দারুণ আক্রমণ করে পাঁচবারের বিশ^চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল| কিন্তু বারেবারে নরওয়ের গোলরক্ষকের কাছে গিয়ে পরাস্ত হন গুইমারেস-এন্দ্রিক| এভাবেই কেটে যায় ৭৮ মিনিট| পরের দশ মিনিটের গল্পটা আর্লিং হালান্ডের| এই সময়ের মধ্যে ব্রাজিলের জালে দুবার বল পাঠান এই ম্যানচেস্টার সিটি তারকা| যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে নেইমার একটি গোল পরিশোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে ব্রাজিলকে হারায় নরওয়ে|
আর তাতে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় মহাকাব্য লিখল নরওয়ে| আর্লিং হালান্ডের দানবীয় পারফরম্যান্সে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ^কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার গৌরবময় ইতিহাস গড়ল নরওয়ে| যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে| ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা| ম্যাচের শুরুতেই ব্রাজিলের মনে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইউরোপের দলটি| ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই ব্রাজিলের জালে বলও পাঠিয়ে দিয়েছিল নরওয়ে| সঙ্গে সঙ্গে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল পুরো স্টেডিয়াম| কিন্তু অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি| তাতেই যেন প্রাণ ফিরে পায় ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা| আলিসনকে ফাঁকি দিয়ে অফসাইডে দেওয়া গোলটি ছিল প্যাটট্রিক বার্গের| এদিকে ম্যাচের দশম মিনিটে লিড নিতে পারতো ব্রাজিল|
ডি-বক্সের ভেতরে ম্যাথিউস কুনহাকে ফাউল করেন নরওয়ের এক ডিফেন্ডার| ভিএআরের মাধ্যমে ফাউল ঘোষণা করে পেনাল্টি দেন রেফারি| পেনাল্টি কিক নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস| তার নেওয়া শটটি বীরত্ব দেখিয়ে ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরইয়ান নাইল্যান্ড| পেনাল্টি মিসের ধাক্কা সামলে প্রথমার্ধের শেষদিকে ম্যাথিউস কুনহা এবং মার্তিনেল্লি দূরপাল্লার শটে গোল করার চেষ্টা করলেও নরওয়ের ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন| ফলে আক্রমণের পর আক্রমণ করেও গোলহীনভাবেই বিরতিতে যেতে হয় লাতিন আমেরিকার দলটিকে| দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একাদশে দুটি পরিবর্তন আনে নরওয়ে| মাঠে নামেন অস্কার বব ও আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপ| এদিকে ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে কুনহা পরিবর্তে এন্দ্রিককে মাঠে নামান কার্লো আনচেলত্তি| মাঠে নামার প্রথম মিনিটেই গোলের এক সুবর্ণ সুযোগ মিস করেন এই উদীয়মান ব্রাজিলিয়ান তারকা| বামপ্রান্ত থেকে আক্রমণে আসা ভিনিসিয়ুস এক দুর্দান্ত পাস দেন এন্দ্রিককে| বল নিয়ে নরওয়ের বক্সের ভেতরে ঢ়ুকে যান তিনি|
সামনে ছিলেন কেবল গোলরক্ষক| টোকা দিয়ে বল জালে জড়াতে চেয়েছিলেন তিনি| কিন্তু বলটি চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে| ৬২তম মিনিটে বক্সের খানিক বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শট নিয়েছিলেন রায়ান| এবারও নরওয়ের ত্রাতা হয়ে উঠেন গোলরক্ষক নাইল্যান্ড| পরের মিনিটেই দুর্দান্ত এক সুযোগ নষ্ট করেন গুইমারেস| ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে আসে সেই মাহেদ্রক্ষণ| না, কোনো গোল হয়নি| এসময় বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়র| তার সঙ্গে দানিলোকেও মাঠে নামান কোচ আনচেলত্তি| ম্যাচের ৭৯তম মিনিটে নিউজার্সির পুরো স্টেডিয়ামকে যেন স্তব্ধ করে দেন নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা আর্লিং হালান্ড| দুর্দান্ত এক হেডে আলিসনকে পরাস্ত করেন তিনি| তাতেই ১-০ গোল ব্যবধানে এগিয়ে যায় নরওয়ে| এখানেই থামেননি হালান্ড| প্রথম গোলের ঠিক দশ মিনিট পর আরও একবার ব্রাজিলের জালে বল পাঠান তিনি| ম্যাচের ৮৯তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে এক বুলেট গতির শট নেন হালান্ড| যা আটকাতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক আলিসন বেকার| ম্যাচের শেষদিকে পেনাল্টি থেকে একটি গোল করলেও দলের হার এড়াতে পারেননি নেইমার| ম্যাচটি শেষ হয় ২-১ ব্যবধানে|