বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: August 20, 2026
August 20, 2026
আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক

প্রচন্ড গরমে রোমের টাইবার নদীতে ভ্রমণে পর্যটকদের স্বস্তি

Published: August 20, 2026 at 01:09 PM
প্রচন্ড গরমে রোমের টাইবার নদীতে ভ্রমণে পর্যটকদের স্বস্তি

রোমের প্রাচীন স্থাপনা দেখতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা কিংবা চড়া দামে আইচক্রিম জেলাটো কেনার বদলে প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে টাইবার নদীতে ভ্রমণে স্বস্তি খুঁজছেন ঘর্মাক্ত পর্যটকেরা। পর্যটকদের চেনা পথের বাইরে নতুন এ আয়োজন প্রাচীন এই শহরের প্রাণপ্রবাহ টাইবার নদী ঘুরে দেখার তুলনামূলক নতুন ও ব্যতিক্রমী সুযোগ। রোম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। ঐতিহাসিক পিয়াজা দেল পোপোলোর কাছে নদীর তীর থেকে র্যাফটিং শুরু হয়। ফোলানো র্যাফটগুলো শহরের সবচেয়ে বেশি ছবি তোলা কয়েকটি স্থাপনার পাশ দিয়ে ভেসে যায়। এর মধ্যে রয়েছে সম্রাট হ্যাড্রিয়ানের সমাধিস্থল কাস্তেল সান্ত’আঞ্জেলো।

পানির ওপর থেকে দেখা যায় সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার গম্বুজও। প্রায় দুই ঘণ্টা পর ট্রাস্তেভেরে এলাকায় প্রাচীন রোমান বন্দরে গিয়ে এ ভ্রমণ শেষ হয়। ট্রাস্তেভেরে নামটির আক্ষরিক অর্থ ‘টাইবারের ওপারে।’ সমপ্রতি ‘রোমান র্যাফটিং’ ভ্রমণে অংশ নেওয়া জার্মানির ১৯ বছর বয়সী পর্যটক ম্যানুয়েল ফ্রাঙ্ক বলেন, ‘রোমকে অন্যভাবে দেখা, সত্যিই ভালো লাগছে। হেঁটে যা দেখা যায়, তার তুলনায় এটি বিশেষ কিছু।’ তার গাইড জিউসেপ্পে বাত্তালিয়া বলেন, ৪০ ইউরো (৪৬ দশমিক ৭ ডলার) মূল্যের এই ভ্রমণে পর্যটকেরা শহরকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার সুযোগ পান।

তার ভাষায়, এ পথটি ‘রোমানরা তাদের বিজয় অভিযানে বের হওয়ার আগে যে পথে যাতায়াত করত, অনেকটা সেই পথই অনুসরণ করে।’ প্রাচীন রোমে এবং তার পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে ইতালির তৃতীয় দীর্ঘতম এই নদী শহরের বাসিন্দাদের পানি ও খাদ্যের জোগান দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ। ৩৭ বছর বয়সী গাইড বাত্তালিয়া বলেন, ‘আমরা সবসময় সড়ক, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের কথা ভাবতে অভ্যস্ত। কিন্তু রোম আমাদের নদীপথেও ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়।’ দৃশ্যপটের মতো সুন্দর টাইবার দ্বীপের কাছে পৌঁছালে নদীর স্রোত বাড়ে। তখন হালকা ঢেউ তৈরি হয়। র্যাফটগুলো রোমের প্রাচীনতম পাথরের সেতুগুলোর কয়েকটির নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় পর্যটকদের গায়ে পানির ছিটা লাগে। বেলজিয়ামের ৫০ বছর বয়সী পর্যটক সাবিনে মাইসানো পরিবারের সঙ্গে রোমে এসে ভিন্ন কিছু করার সুযোগ খুঁজছিলেন। তিনি বলেন, ‘ সারাদিন কয়েক কিলোমিটার হেঁটে বেড়ানোর পর নৌকায় বসে আমরা বিশ্রাম নিতে, ঠান্ডা থাকতে এবং আরও স্বচ্ছন্দ গতিতে শহরটি দেখতে পারি, যদিও একটু বৈঠা চালাতে হয়।’