রবিবার ১৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২রা কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
LIVE
Printed on: October 18, 2026
October 18, 2026
ইসলাম
ইসলাম

যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ

Published: October 18, 2026 at 12:45 PM
যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া নিষেধ

ইসলামে পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। নামাজের প্রতি আহ্বান জানাতে মুয়াজ্জিন আজান দিয়ে থাকেন। আজানের জবাব দেওয়াও সুন্নত। তবে নির্দিষ্ট কিছু সময় ও পরিস্থিতিতে আজানের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আজানের জবাব না দেওয়ার অবকাশ থাকলেও জবাব দেওয়াকে উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি বিশেষজ্ঞরা।


হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুয়াজ্জিনের গোনাহ তার আজানের আওয়াজ যত দূর পৌঁছায়, তত দূর পর্যন্ত ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতিটি প্রাণী ও নিষ্প্রাণ বস্তু, যারা মুয়াজ্জিনের আজান শুনতে পায়, সবাই তার জন্য সাক্ষ্য দেবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৫১৫)


অন্য এক হাদিসে হজরত বারা ইবনে আজিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, মুয়াজ্জিনের আজানের আওয়াজ যত দূর পৌঁছায়, সে অনুযায়ী তার গোনাহ ক্ষমা করা হয়। যেসব প্রাণী ও নিষ্প্রাণ বস্তু তার আজান শুনতে পায়, তারা কিয়ামতের দিন তার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে। (সুনানে নাসায়ি: ২৫৪)


ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং আজানের জবাব দেওয়াও সুন্নত। আজানের জবাব দেওয়ার নিয়ম হলো, মুয়াজ্জিনের প্রতিটি বাক্যের পর শ্রোতা একই বাক্য উচ্চারণ করবেন। তবে মুয়াজ্জিন যখন ‘হাইয়্যা আলাস সালাহ’ ও ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ বলেন, তখন শ্রোতা ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ বলবেন। (সহিহ মুসলিম: ৩৮৫)


আজানের জবাব দেওয়ার ফজিলত সম্পর্কেও হাদিসে বর্ণনা রয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেন, মুয়াজ্জিনরা বেশি সওয়াব পেলে অন্যরা কীভাবে তাদের সমান সওয়াব লাভ করবেন? উত্তরে নবীজি (সা.) বলেন, মুয়াজ্জিন যা বলেন, অন্যরাও যেন তা-ই বলেন। এরপর আজান শেষ হলে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলে তারাও অনুরূপ সওয়াব লাভ করবেন। (সুনানে আবু দাউদ: ৫২৪)


তবে সব পরিস্থিতিতে আজানের জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকে না। ঐতিহ্যবাহী কৌড়িয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি ও মুহাদ্দিস মাওলানা হেলাল আসহাব কাসেমির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকটি অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকার বিধান রয়েছে।


যেসব অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া জায়েজ নয়

১. নামাজ আদায়ের সময়: কেউ নামাজে থাকা অবস্থায় আজান শুনলে আজানের জবাব দেবেন না।

২. খুতবা চলাকালে: জুমার খুতবা কিংবা বিয়ের খুতবা চলার সময় আজানের জবাব দেওয়া জায়েজ নয়।

৩. স্ত্রী সহবাসের সময়: এ অবস্থায় আজানের জবাব দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৪. প্রস্রাব-পায়খানা করার সময়: এ সময় আজানের জবাব দেওয়া জায়েজ নয়।


যেসব অবস্থায় আজানের জবাব না দিলেও অবকাশ রয়েছে

১. ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন বা শিক্ষা দেওয়ার সময়: কোরআন-হাদিসের জ্ঞান অর্জন, শরিয়তের মাসআলা-মাসায়েল শেখা কিংবা শেখানোর সময় আজানের জবাব না দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে সুযোগ হলে জবাব দেওয়া বা উপস্থিত সবার পক্ষ থেকে একজন জবাব দেওয়া উত্তম।

২. কোরআন তেলাওয়াতের সময়: তেলাওয়াতের সময় আজান হলে তেলাওয়াত চালিয়ে যাওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে তেলাওয়াত সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া, ২য় খণ্ড)

৩. খাবার খাওয়ার সময়: খাবার খাওয়ার সময় আজান হলে জবাব না দেওয়ার অবকাশ রয়েছে। তবে খাওয়া সাময়িক বন্ধ রেখে আজানের জবাব দেওয়া উত্তম। (আদ্দুররুল মুখতার: ১/৩৯৭)


ইসলামে আজানের জবাব দেওয়ার মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের সুযোগ রয়েছে। তাই যেসব পরিস্থিতিতে আজানের জবাব দেওয়া সম্ভব ও শরিয়তসম্মত, সেসব ক্ষেত্রে আজানের জবাব দেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।