দেশে জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ

66

bd-logoসরকার দেশেই জ্বালানি তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সে লক্ষ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ করতে যাচ্ছে। আর তা হবে নিজস্ব অর্থায়নেই। তবে এই প্রকল্পে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা করার কথা ছিল একটি ফরাসি কোম্পানির। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিশ্রুত অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ানোয় এখন বিপিসি তা বাস্তবায়ন করবে। আর প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশেই জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে তিনগুণ। ইতিমধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে বিপিসিকে নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারির (ইআরএল) পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। তবে ১৯৬৮ সালে স্থাপিত দীর্ঘদিনের পুরনো কেন্দ্রটির পরিশোধন ক্ষমতা কমে এখন সাড়ে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটটি নির্মিত হলে দেশে তেল পরিশোধনের ক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে বার্ষিক ৪৫ লাখ টনে দাঁড়াবে। তাতে বছওে অন্তত দেশের দেড় হাজার কোটি টাকার সাশ্রয় হবে। দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পর বিপিসি বছরে মাত্র ১০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করবে। আর গতবছর প্রতিষ্ঠানটি ৫৪ লাখ টন পরিশোধিত ও ক্রুড তেল আমদানি করে। তাতে খরচ হয় ২৭ হাজার  কোটি টাকা।
সূত্র জানায়, বিগত ২০১২ সালে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। তখন প্রকল্পের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে। ২০১৪ সালে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন ২০১০’র আওতায় দরপত্র আহ্বান ছাড়াই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দেন। কিন্তু ঠিকাদার মনোনয়ন ও অর্থায়ন জটিলতার কারণে এখনো পর্যন্ত প্রকল্পের নির্মাণ কাজই শুরু করা যায়নি।
সূত্র আরো জানায়, প্রকল্পের বিষয়ে গতবছরের ১১ নভেম্বর ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠান টেকনিপ জিওপ্রডাকশনের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। আর ডিসেম্বরেই কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাবনা জমা দেয় টেকনিপ। খসড়া প্রকল্প পরিকল্পনায় (ডিপিপি) খরচ ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে টেকনিপ প্রাাথমিকভাবে প্রায় ৪ হাজার ৭১০ কোটি টাকা বাংলাদেশকে ঋণ হিসেবে দিতে সম্মত হয়। একই সাথে বিভিন্ন আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বাকি টাকা সংগ্রহেও সহযোগিতা করার নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু মার্চে তারা ওই প্রস্তাব থেকে সরে আসে। টেকনিপ শুধুমাত্র ইপিসি (প্রকৌশল, আহরণ ও নির্মাণ) ঠিকাদার হিসেবেই কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। কিন্তু এখন বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নের পথ গ্রহণ করবে। আর দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডকে (ইআইএল) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেজন্য ১১০ কোটি টাকা পাবে ইআইএল। দরপত্র ছাড়াই এই নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন।
এদিকে এ বিষয় জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির প্রথম ইউনিটটি পাকিস্তান আমলে নির্মাণ করেছিল টেকনিপ। তাদের প্রকৌশল ও নির্মাণ দক্ষতা সন্তোষজনক। তাই ওই কোম্পানিটি আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেলেও তাদের মাধ্যমেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে চান সরকারের শীর্ষব্যক্তিরা। আর বর্তমানে বিপিসি তেল বিক্রি করে যে অর্থ আয় করেছে তা ব্যাংকে অলস পড়ে রয়েছে। এই অবস্থায় বিপিসির নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অতিসম্প্রওতি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব জনেন্দ্র নাথ সরকার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বিপিসির চেয়ারম্যানকে ওই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অন্যদিকে বিপিসির চেয়ারম্যান মাহমুদ রেজা খান জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, বিপিসি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে। চলতি ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে সংস্থাটির নিট মুনাফা প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৩ হাজার কোটি টাকা।