জেনেশুনে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না : প্রধানমন্ত্রী

16

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা জেনেশুনে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই একই অবস্থা। বাবা-মায়েরা চায় না তাদের সন্তানরা এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাক। আর যাদের স্কুল-কলেজপড়–য়া ছেলেমেয়ে নেই তারা শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা বলেন। তিনি বলেন, টিকা দেয়ার পর স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হবে। শিশুদেরও করোনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জেনেশুনে শিশুদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেব কিনা বিরোধী দলের উপনেতা ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তাদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পাল্টা প্রশ্ন করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা শনিবার অপরাহ্নে একাদশ সংসদের ত্রয়োদশ (২০২১-২২ বাজেট অধিবেশন) অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এ কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী দেশের অধিকাংশ জনগণকেই টিকার আওতায় নিয়ে আসার এবং সবসময় তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে লকডাউন মেনে চলে করোনা প্রতিরোধের জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা লকডাউন ঘোষণা করেছি। আপনারা অন্ততপক্ষে নির্দেশনাগুলো মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখেন এবং অন্যকেও সুরক্ষিত করেন, যেন করোনা আর বাড়তে না পারে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘টিকা আসতে শুরু করেছে। কোনো অসুবিধা হবে না। সারাদেশে আমাদের মানুষ যাতে সুরক্ষিত থাকে তার ব্যবস্থা আমরা করব।’
প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হাত ধৌত করা এবং বাড়ি গিয়ে গরম পানির ভাপ নেয়া এবং কুসুম গরম পানি দিয়ে গারগেল করার মতো সাধারণ এবং করোনা প্রতিরোধে অবশ্য পালনীয় হিসেবে স্বাস্থ্যবিধিগুলো স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, এগুলো মানতে পারলেই এই রোগের বিস্তারকে আমরা রোধ করতে পারব।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশবাসীকে বলব, আমরা লকডাউন ঘোষণা করেছি আপনারা অন্ততপক্ষে নির্দেশনাগুলো মেনে নিজেকে সুরক্ষিত রাখেন এবং অন্যকেও সুরক্ষিত করেন।’
টিকার বিষয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না এবং দেশের ৮০ ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসায় তার সরকারের পরিকল্পনা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, টিকা আসতে শুরু করেছে। কোনো অসুবিধা হবে না। মানুষ যাতে সুরক্ষিত থাকে তার ব্যবস্থা করব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভারত থেকে করোনা টিকা কেনার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু ভারতে করোনা বেড়ে যাওয়ায় তারা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে কিছুদিন আমাদের সমস্যা হয়েছিল। এখন আর সমস্যা নেই। চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা এসে গেছে, আরো আসবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী গত শুক্রবার রাতে এবং গতকাল শনিবার সকালে মডার্না ও সিনোফার্মের টিকা আসার কথা উল্লেখ করে বলেন, যেখানে টিকা পাওয়া যাচ্ছে সেখানে আমরা যোগাযোগ করছি। আরো কিনে আনব। চীন, রাশিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র সব জায়গায় আমরা যোগাযোগ রেখেছি। তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছি আমরা ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনব। বিনামূল্যে টিকা দেয়া হচ্ছে। আমরা অনেক টাকা দিয়ে টিকা কিনে এনেছি। কিন্তু জনগণের স্বার্থে বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছি। আমরা সব কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেই গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষদের।
বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরও অধিবেশনে বক্তৃতা করেন।