বিএসএমএমইউতে ৫০ শয্যার আরেকটি করোনা ইউনিট চালু

14

দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শাহবাগ বেতার ভবনে ফিভার ক্লিনিকে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ নতুন এ করোনা ইউনিটের উদ্বোধন করেন।
এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিল্টন হলে আয়োজিতে এক সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, বর্তমানে মানুষের মাঝে কোভিড-১৯-এর সংক্রমণ ও আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যু বেড়েছে। ফলে করোনা আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসাসেবা প্রদান বিরাট চ্যালেঞ্জের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোগীদের সামাল দিতে গিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ফিভার ক্লিনিকে ৫০ শয্যার করোনা ইউনিট চালু করেছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৫০ শয্যা নিয়ে বেতার ভবনের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি করা হবে। পরবর্তীতে আরো ৫০ শয্যা বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা বেতার ভবনে চালুকৃত নতুন করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি হবেন এবং তারা চিকিৎসাসেবা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাবেন।
ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমানে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকে ২০০ শয্যা ও ২০টি আইসিইউ চালু রয়েছে। কেবিন ব্লকের করোনা ইউনিটে ২০টি কেবিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইসিইউ বেড আরো ১টি বৃদ্ধি করা হবে। অর্থাৎ কোভিড-১৯ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ১০০টি করোনা বেড, ১০টি আইসিইউ বেড এবং ২০টি কেবিন বৃদ্ধি করা হবে। কেবিনের সংখ্যা এরই মধ্যে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর, সিপিএপি মেশিন, আরটিপিসিআর মেশিন বৃদ্ধি করার চেষ্টা চলছে।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রত্যেককে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে বলে মন্তব্য করে অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কেউ করোনার টিকা নিয়েছেন তাই আর আক্রান্ত হবেন না এমনটা মনে করলে ভুল করবেন। স্বাস্থ্যবিধি না মানলে যে কোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন। তিনি বলেন, করোনায় আক্রান্ত হলে মৃত্যু ঝুঁকি থাকে। আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থ হয়ে উঠলেও দীর্ঘকালীন জয়েন্ট পেইন, স্মৃতিভ্রম ও হার্ট অ্যাটাকসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় বাড়তি ঝুঁকি তৈরি হয়। সুতরাং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে জানান, করোনা মোকাবেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকা- বিদ্যমান রয়েছে। এ ভাইরাসে প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর রোগীদের সুবিধার্থে গত বছরের মার্চে মেডিসিন, সার্জারি, বক্ষব্যাধিসহ বিভিন্ন বিভাগে হেল্প লাইন চালু করা হয়।
২১ মার্চ জ্বর,সর্দি, হাঁচি-কাশির রোগীদের জন্য বেতার ভবনে পৃথক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা হিসেবে ফিভার ক্লিনিক চালু করে বিএসএমএমইউ। চলতি বছরের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ফিভার ক্লিনিকে ৮৮ হাজার ৩৯২ জন সেবা নেন। গত বছরের ১ এপ্রিল করোনা ভাইরাস পরীক্ষার ল্যাবরেটরি চালু হয়। আর ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৮৭ জন রোগীর টেস্ট করা হয়। গত বছরের ৫ এপ্রিল বিএসএমএমইউতে বিশেষজ্ঞ পরামর্শ সেবা কেন্দ্র বিশেষজ্ঞ হেলথ লাইন চালু করা হয়। একই বছরের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকে করোনা সেন্টার চালু করা হয়। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত ৭ হাজার ৫৪৬ জন করোনা রোগী সেবা নিয়েছেন বিএসএমএমইউ থেকে। আর ভর্তি হয়েছেন ৪ হাজার ৪১৯ জন। ডিসচার্জড হয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৪ জন। বর্তমানে বিএসএমএমইউয়ের আইসিইউতে ভর্তি রয়েছেন ১৯ জন এবং কেবিন ব্লকে ভর্তি আছেন ১৯৬ জন। এছাড়া চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে করোনা ১৯ টিকাদান কর্মসূচির সূচনা হয়। ৭ এপ্রিল পর্যন্ত টিকা নেন ৫২ হাজার জন। সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে দ্বিতীয় ডোজ টিকা শুরু হয় বিএসএমএমইউতে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ রফিকুল আলম, উপউপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল হান্নান, প্রক্টর হাবিবুর রহমান দুলালসহ অন্যরা।