বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শেষের পথে

10

রাজধানীর হাতিরঝিলে বিজিএমইএর বহুতল ভবনটি ভাঙার কাজ প্রায় শেষের পথে। একসময় লেকের মাঝে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবৈধভাবে নির্মিত ১৬তলা ভবনটি ভাঙতে ভাঙতে এখন কেবল তিনতলা দৃশ্যমান। আগামী জুন মাসের মধ্যে ভবনটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী এ কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ফোর স্টার এন্টারপ্রাইজের এক কর্মকর্তা।
গত বছরের জানুয়ারিতে বহুল আলোচিত বিজিএমইএ ভবন ভাঙার কাজ শুরু হয়। তৎকালীন গণপূর্তমন্ত্রী (বর্তমান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী) শ.ম. রেজাউল করিম ভবন ভাঙার কাজের উদ্বোধন করেন।
‘হাতিরঝিলের ক্যান্সার’-খ্যাত সুবিশাল এ ভবনটি ভাঙার কাজ শুরু হয় সনাতন পদ্ধতিতে। ছয় মাসের মধ্যে ভবনটি সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলার কথা থাকলেও করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও একেবারে থেমে যায়নি কাজ। বর্তমানে অবশিষ্ট তিন তলা দেখে আগের সেই সুবিশাল ভবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে ধারণা করা যায় না। সম্প্রতি দেখা যায়, ভবনটির চারপাশ ঘিরে কেবলই ইট, পাথর, বালু ও রডের স্তূপ। নিচতলা থেকে বর্জ্য তুলে ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে ফেলা হচ্ছে।
নিরাপত্তারক্ষীরা জানান, ভবনটিতে কারো ঢোকার অনুমতি নেই। খুব সাবধানতার সঙ্গে ভাঙার কাজটি চলছে। এ পর্যন্ত এ কাজ করতে গিয়ে কারো প্রাণহানি বা বড় ধরনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
২০১০ সালে একটি ইংরেজি দৈনিকে রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ডি এইচ এম মনিরউদ্দিন। পরদিন হাইকোর্ট বিজিএমইএ ভবন কেন ভাঙার নির্দেশ দেয়া হবে না জানতে চেয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেন। পরে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে বিজিএমইএ আপিল আবেদন করে। ওই আবেদনের শুনানি শেষে ২০১৩ সালে বিজিএমইএকে কিছু নির্দেশনা দিয়ে ভবন ভাঙার জন্য বলা হয়। এরপর রিভিউ আবেদনটিও খারিজ হয়। পরবর্তীতে আদালতের কাছে সময় চেয়ে বারবার আবেদন করে সংগঠনটি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি ভেঙেই ফেলতে হয়।