ডিজিটাল ম্যারাথনের সাক্ষী হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ

25

ম্যারাথন প্রতিযোগিতার সাক্ষী হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জ। এই প্রথম জেলাতে ডিজিটাল ম্যারাথন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হলো। ম্যারাথনে দৌড়ালেন কয়েক হাজার নবীন-প্রবীণ। তবে আধিক্য ছিল নবীনদেরই। বাদ যাননি নারীরাও। প্রতিযোগিতায় জিতবার জন্য নয়, বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য ছিল নতুন আনন্দের ভাগীদার হওয়ার। দৌড়াতে থাকা প্রতিযোগীদের অভিব্যক্তিতে তারই প্রকাশ ঘটে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ঢাকা ম্যারাথন-২০২১’ এর সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তর ১১ পদাতিক ডিভিশন ও বগুড়া এরিয়ার তত্ত্বাবধানে জেলায় এ ম্যারাথনের আয়োজন করে এডহক ৯ বীর (মেকানাইজড)। শনিবার এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৮টা বাজার আগেই জেলাশহরের ডা. আ.আ.ম. মেসবাউল হক (বাচ্চু ডাক্তার) স্টেডিয়াম ভরে উঠে অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে। অংশ নেয়ার জন্য অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। রেজিস্ট্রেশন হয় ৯ হাজারের উপরে। সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত চলে ম্যারাথন উপলক্ষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে টি-শার্ট ও ক্যাপ বিতরণ। টি-শার্টের সাইজ অনুযায়ী ছিল কয়েকটি বুথ। অবশ্যই নারীদের জন্য ছিল আলাদা বুথও।
উদ্বোধন অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল পৌনে ৯টার দিকে। উদ্বোধনী মঞ্চে এ সময় বক্তব্য দেন- চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসি, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এসএম সামিউজ্জামান, ৯ বীর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সায়েদুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ রুহুল আমিন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ। এ সময় মঞ্চে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার এএইচএম আবদুর রকিব ও সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এ.কে.এম. তাজকির-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেবেন্দ্র নাথ উরাঁওসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনায় ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম সরকার।
বঙ্গবন্ধুর চেতনা ধারণ করে তরুণদের এগিয়ে যাবার আহ্বান জানিয়ে ডা. সামিল উদ্দীন আহমেদ শিমুল এমপি বলেন, এই ম্যারাথনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, এটি তারই অংশ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেডিয়ামে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিই প্রমাণ করে, আগামীতে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখতে চাই।
ফেরদৌসী ইসলাম জেসী এমপি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, তোমরা মুজিব সৈনিক হয়ে বেঁচে থাকবে। তোমাদের কণ্ঠ মুজিবের কণ্ঠ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বে তোমরাই, এ প্রত্যাশা আমি করি।
অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এসএম সামিউজ্জামান বলেন, এ অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে। বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু সমার্থক দুটি শব্দ।
মেজর সায়েদুল ইসলাম বলেন, ম্যারাথন আয়োজন নিয়ে সংশয়ের মধ্যে ছিলাম। কেননা সাড়ে ৫ হাজার লোককে ম্যারাথন করাতে পারব কিনা? কিন্তু আজকে আপনাদের উপস্থিতি দেখে আমার সেই ভুল ভেঙে গেছে। ৯ হাজারের বেশি লোক রেজিস্ট্রেশন করেছে। তাই চাঁপাইনবাবগঞ্জকে অন্য জেলার সাথে তুলনা করলে হবে না।
উদ্বোধন ঘোষণার আগে অনুষ্ঠানের থিম সং পরিবেশন করেন জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। এরপর অতিথিবৃন্দ বেলুন উড়িয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিজিটাল ম্যারাথন প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ বলেন, আজ আমি সত্যিই আবেগ আপ্লুত। আমি জানি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তারা দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি বলেন, এই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটিতে এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে পারব, ভাবতে পারিনি। তাই এই কৃতিত্ব আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব শ্রেণির মানুষকে দিতে চাই।
সভাপতির বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই শুরু হয় ম্যারাথন প্রতিযোগিতা। একসঙ্গে দৌড় শুরু করেন কয়েক হাজার মানুষ। প্রতিযোগীরা বাচ্চু ডাক্তার স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে শান্তিমোড়, বিশ্বরোড মোড়, মহানন্দা বাস টার্মিনাল, ঢাকা বাস টার্মিনাল, ফুড অফিস মোড়, নিউমার্কেট, টাউন ক্লাব, গাবতলা মোড়, হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনের রাস্তা হয়ে পুরাতন স্টেডিয়ামে গিয়ে দৌড় শেষ করেন। ৫ কিলোমিটারের রাস্তা দ্রুত অতিক্রম করেছেন সৌভাগ্যবান ৬০ জন। এদের মধ্যে দুজন নারীও ছিলেন।
সকাল সাড়ে ১০টায় পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রথম ১০ জনসহ মোট ৬০ জনের হাতে সনদপত্রসহ পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। এর মধ্য দিয়ে শেষ হয়ে জেলায় অনুষ্ঠিত প্রথম ডিজিটাল ম্যারাথনের।