তর্ত্তিপুরে গঙ্গাস্নানে পুণ্যার্থীদের ঢল

37

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌর এলাকার তর্ত্তিপুর মহাশ্মশানে মাকরী সপ্তমী মহাপূর্ণ স্নান উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বছর নদী খননের কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি হয়েছেন পুণ্যার্থীরা। গঙ্গাস্নানকে কেন্দ্র করে তর্ত্তিপুর ঘাট এলাকায় প্রতিবছরের ন্যায় এবারো মেলা বসেছে, যা চলবে ৩ দিন। এদিকে একে ঘিরে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সনাতন শাস্ত্রমতে ভগীরথ গঙ্গা নদীর জলপ্রবাহ নিয়ে বাংলাদেশে আশার সময় তর্ত্তিপুর ঘাট এলাকায় শ্মশানের পাশে পৌঁছালে নিমগাছের নিচে জাহ্নবী মনির আশ্রম থেকে তাদের দেবতা ভুলবশত গঙ্গার জল পান করে ফেলে। এতে ভগীরথ ক্ষুব্ধ হলে জাহ্নবী মনি তার জান কেটে সেই জল বের করে দেয় এবং গঙ্গা মুক্ত হয়। সেই থেকে গঙ্গার এই জলপ্রবাহ বলে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন। আর এই উপলক্ষে এই দিনে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুণ্য লাভের আশায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এখানে জমায়েত হন। স্নান শেষে অধিকাংশ পুণ্যার্থী দই-চিঁড়া ভোজ খেয়ে গঙ্গার জল সাথে নিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান।
একে ঘিরে কীর্তন, গীতাপাঠ ও ধর্ম সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পাশে শ্মশান থাকায় অনেকে হারানো আপনজনদের জন্য প্রার্থনা করেন।
গঙ্গাস্নানে আসা কলেজপড়য়া রাধারাণী গতবছর লকডাইনের কারণে না এলেও এ বছর প্রচুর ভক্তদের দেখে তিনি আনন্দিত বলে জানান।
অপর পুণ্যার্থী কল্পনা রাণী জানান, নদীতে জল কমে যাওয়ায় গত ২ বছর তিনি স্নানে আসেননি। তবে এ বছর এসে বেশ ভালো লাগছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো তর্ত্তিপুর ঘাট প্রাঙ্গণে অসুস্থ ও সমস্যায় পড়াদের সহায়তা করতে একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে। এ টিমের সদস্যরা চিকিৎসা প্রদান ছাড়াও বিনামূল্যে ওষুধ ও করোনার প্রতিরোধক উপকরণ বিতরণ করছেন।
পাশাপাশি এ বছর পুণ্যার্থী সংখ্যা দ্বিগুন হওয়ায় একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমান আদালত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে।
তর্ত্তিপুর মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী কমল কুমার ত্রিবেদী জানান, নদী খননের কারণে জল বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং গত বছর লকডাউনের কারণে পুণ্যার্থী আসতে না পারায় এ বছর সারাদেশের দূর-দূরান্ত থেকে গত বছরের দ্বিগুণ ভক্ত পুণ্য লাভের আশায় এ বছর জমায়েত হয়েছে। তিনি বলেন, পবিত্র গঙ্গার পানিতে এ দিনে পুণ্যার্থীরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত স্নান করে করে থাকে। এই গঙ্গাস্নান উপলক্ষে তর্ত্তিপুর ঘাট এলাকায় বৃহৎ একটি মেলা বসে থাকে।