আইপিএল ইতিহাসে রেকর্ড গড়লেন মরিস

13

আইপিএল ইতিহাসে দামের নতুন রেকর্ড হয়ে গেল ২০২১ সালের নিলামে। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, ৭৫ লাখ ভিত্তিমূল্যের একজন খেলোয়াড় কিনা বিক্রি হলেন ১৬ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে! বিস্ময়কর হলেও রাজস্থান রয়্যালস সেটিই করে দেখালো। দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ক্রিস মরিসকে কিনতে টাকার বস্তা নিয়ে বসেছিল তারা। যাতে আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় বনে গেলেন মরিস। গত বছরের নিলামেই নতুন রেকর্ড গড়ে প্যাট কামিন্সকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। সাড়ে ১৫ কোটি রুপিতে অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে কিনেছিল তারা। যদিও কামিন্সের ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। কিন্তু মরিসের ডাক শুরু হয়েছিল মাত্র ৭৫ লাখ রুপি থেকে। লোয়ার অর্ডারে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সঙ্গে পেস বোলিংয়ে কার্যকর হওয়ায় তাকে পেতে আগ্রহ দেখিয়েছে প্রায় সব ফ্র্যাঞ্চাইজি। তবে সবচেয়ে বেশি লড়াই হয়েছে রাজস্থান ও পাঞ্জাব কিংসের। শেষ পর্যন্ত নতুন রেকর্ড গড়ে প্রোটিয়া অলরাউন্ডারকে ঘরে তোলে রাজস্থান। আইপিএল নিলামে আগের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড় ছিলেন যুবরাজ সিং। ২০১৫ সালে এই অলরাউন্ডারকে কিনতে ১৬ কোটি রুপি খরচ করেছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। মরিসকে পাওয়ার লড়াইয়ে শুরুর বিড ছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। পরে যোগ দেয় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। দ্রুত দাম ২ কোটি থেকে ৫ কোটিতে উঠে যায়। অথচ এই দৃশ্যপটে একেবারেই ছিল না রাজস্থান। দাম যখন ১০ কোটিতে গিয়ে পৌঁছালো, তখন গিয়ে শুরু রাজস্থানের ‘খেলা’। মুম্বাই সরে দাঁড়ানোর পর তাদের সঙ্গে লড়াই শুরু হয় পাঞ্জাবের। শেষ পর্যন্ত আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারের ‘ট্যাগ’ বসিয়ে মরিসকে কিনে নেয় রাজস্থান। অথচ প্রোটিয়া অলরাউন্ডারের ‘চাহিদা’ এমন হবে, নিলামের ওঠানোর আগে ঘুণাক্ষরেও কেউ ভাবেননি। গত মৌসুমে বেঙ্গালুরুর জার্সিতে বল হাতে ভালো করলেও ব্যাটিংয়ে কিছুই করতে পারেননি ৩৩ বছর বয়সী অলরাউন্ডার। ৯ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে বেঙ্গালুরুর সবচেয়ে সফল বোলার হলেও ব্যাট হাতে করেছিলন মাত্র ৩৪ রান। এর আগেও রাজস্থানের জার্সিতে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মরিসের। ২০১৫ সালে ছিলেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটির তাঁবুতে। তবে সবচেয়ে বেশি সময় পার করেছেন তিনি দিল্লি ক্যাপিটালসে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ছিলেন গত আসরের রানার্স-আপ হওয়া দলটিতে। যদিও নিলামের শুরুতে মনে হয়েছিল, সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ‘বিড’। কেননা অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডারকে পেতে লড়াই জমে উঠেছিল। ২ কোটি রুপির ভিত্তিমূল্য থেকে তাকে ১৪ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে কিনে নেয় বেঙ্গালুরু। যদিও পরবর্তীতে তার ওপর থেকে আলো সরে মরিসের ওপর গিয়ে পড়লো। এদিকে গত মৌসুমে রাজস্থানের নেতৃত্বে থাকা স্টিভেন স্মিথের নতুন ঠিকানা দিল্লি ক্যাপিটালস। তাকে ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি। মঈন আলীকে ৭ কোটি রুপিতে নিয়েছে চেন্নাই সুপার কিংস। তবে বিক্রি হননি জেসন রয়, অ্যালেক্স হেলস ও অ্যারন ফিঞ্চ।