গোমস্তাপুরে মুকুলিত আম বাগানে ছড়াচ্ছে ঘ্রাণ

28

আল-মামুন বিশ্বাস, গোমস্তাপুর

শীতের তীব্রতা কাটিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরের আম গাছে ফুটতে শুরু করেছে মুকুল। মুকুলিত আমবাগানগুলো থেকে বাতাসে বইতে শুরু করেছে পাগল করা ঘ্রাণ। এদিকে এ বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদনের আশা কৃষি বিভাগের। আর বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন বাগানমালিকরা।
গোমস্তাপুর উপজেলার আমবাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বাগানের সারি সারি আমগাছের ডালে শোভা পাচ্ছে হলুদ আর সবুজের মহামিলন। গাছের প্রতিটি ডালপালায় মুকুল ছেয়ে আছে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে মুকুলের ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ বাতাসে মিশে সৃষ্টি করছে মৌ মৌ গন্ধ। যে গন্ধে মৌমাছির আনাগোনা। অনেকেই মুকুল রক্ষা করতে গাছে গাছে ওষুধ স্প্রে করতে দেখা গেছে। বাগানমালিকরা মনে করছেন, এ বছর আমের ফলন নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমগাছ রয়েছে। এর মধ্যে ফজলি ৯৮৫ হেক্টর, আশ্বিনা ১ হাজার ২৩০ হেক্টর, ল্যাংড়া ৩৯৫ হেক্টর, খিরসাপাত ২৫৫ হেক্টর, গোপাল ভোগ ২২০ হেক্টর, আ¤্রপালি ২৮০ হেক্টর, মল্লিকা ৫ হেক্টর, লক্ষণভোগ ১৯৫ হেক্টর, বোম্বাই ১৫ হেক্টর, উন্নত গুটি ৩৭৫ হেক্টর জমিতে।
বাগানমালিক বাবু আলি বলেন, বর্তমানে আবহাওয়া ভালো থাকায় গাছে গাছে মুকুল ফুটতে শুরু করেছে। তার বাগানে গত কয়েক সপ্তাহ থেকে বেশির ভাগ গাছে মুকুল এসেছে বলে তিনি জানান। পোকা-মাকড় ও অন্যান্য রোগবালাই থেকে মুকুল রক্ষা করতে প্রাথমিক পর্যায়ে পরিচর্যা শুরু করা হয়েছে। বড় ধরনের কোনো দুর্যোগ না হলে আমের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি মনে করছেন।
বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বাগান মালিক ও আম ব্যবসায়ী মাসুদ জানান, আমবাগানে মুকুল আসার পর থেকেই তিনি গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে মুকুল রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (গতকাল) পর্যন্ত উপজেলার আমবাগানগুলোতে ৭৫% পর্যন্ত মুকুল ফুটেছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে মুকুল ফুটতে দেরি হয়েছে। তবে আবহাওয়ার পরিবেশ অনূকুল থাকায় এবার মুকুল ফোটার পরিমাণ ৯৫% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছেন। তিনি জানান, আমচাষিদের বিভিন্ন সময় পরিচর্যা বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যেমন মাঠ দিবস, উঠান বৈঠক, সভা-সেমিনার ইত্যাদি। ছত্রাকনাশক-কীটনাশক ব্যবহারে স্প্রের পরিমাণ, ফলন অথবা মটরদানা বাঁধার সময়, মার্বেল আকৃতি হওয়ার সময় মোট ৩ বার স্প্রে দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে গমএইচ এবং হপারের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য। তিনি আশা করছেন চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আম উৎপাদন হবে।