ক্রিকেটার রাজ্জাকের বর্ণিল রেকর্ড

23

দেশের ক্রিকেটে অনেক প্রথমের মালিক আবদুর রাজ্জাক। ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে থাকবেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার হিসেবে। ক্রিকেটার থাকাকালে ‘নির্বাচক’ হওয়াও দেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা বটে। ক্রিকেটার রাজ্জাকের বর্ণিল রেকর্ড নিয়ে হাজির হয়েছি।
ওয়ানডেতে রাজ্জাক
লাল সবুজের জার্সিতে এক দিনের ক্রিকেটে রাজ্জাকের অভিষেক হয় এশিয়া কাপে। ২০০৪ সালে কলম্বোতে হংকয়ের বিপক্ষে জাতীয় দলের জার্সি পান তিনি। ব্যাট হাতে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। বল হাতে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। সর্বশেষ ২০১৪ সালের আগস্টে খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের মাটিতে। অভিষেকের মতো শেষ ম্যাচ রাঙাতে পারেননি। এই দিন সবচেয়ে খরুচে বোলার ছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। ২০০৪ এ শুরু আর ২০১৪ তে শেষ। মাঝে স্পিন জাদুতে বাংলাদেশকে হাসিয়েছেন বহুবার। নাম লিখিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। এর মধ্যে ১৫৩ ম্যাচে ৪.৫৩ ইকোনোমিতে রাজ্জাক নিয়েছেন ২০৭ উইকেট। সেরা বোলিং ফিগার ২৯ রানে ৫ উইকেট জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে ওয়ানডে ইতিহাসে তিনি সর্বোচ্চ চারবার ৫ উইকেট নিয়েছেন। তার সঙ্গে এই রেকর্ডে যৌথভাবে আছেন সনাৎ জয়াসুরিয়া। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে রাজ্জাক সবচেয়ে কম ১৪১ ম্যাচ খেলে ২০০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। পরে এই রেকর্ডের সঙ্গে যুক্ত হন সাকিব আল হাসান ও মাশরাফি বিন মুর্তজা। দ্বিতীয় বাংলাদেশি ও প্রথম স্পিনার হিসেবে ২০১০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনি হ্যাটট্রিক করেন। দেশের স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশিবার ৫ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডও তার দখলে। তার খেলা ৬২ ম্যাচে জিতেছে বাংলাদেশ। জয়ী ম্যাচে নিয়েছেন ১২৯ উইকেট, হেরেছেন ৯০ ম্যাচে। হারা ম্যাচে রাজ্জাকের উইকেট ৭৮টি। একটি ম্যাচের ফল হয়নি। ব্যাট হাতে রাজ্জাক ১৩.৪৩ গড়ে ৭৭৯ রান করেন। সর্বোচ্চ ৫৩ রান। ব্যাট হাতে তার দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড রয়েছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২০১৩ সালে ২১ বলে ফিফটি করে যৌথভাবে মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে নাম লেখান।
টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে রাজ্জাক
লাল বলে সাদা পোশাকে রাজ্জাকের ক্যারিয়ার ততটা বর্ণিল নয়। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক তার। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন সবশেষ টেস্ট। ১২ বছরে মাত্র ১৩ ম্যাচ খেলেছেন। উইকেট নিয়েছেন ২৮টি। ইকোনমি রেট কাঁটায়-কাঁটায় ৩। ম্যাচে তার সেরা বোলিং ১২৩ রানে ৫ উইকেট। ইনিংস সেরা বোলিং ২৩ রানে ৪ উইকেট। ২০০৬ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় রাজ্জাকের। ৮ বছরে ৩৪ টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি স্পিনার উইকেট নিয়েছেন ৪৪টি।
ঘরোয়া ক্রিকেটের কিংবদন্তি
দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে তার আশপাশে কেউ নেই। ২০০০-০১ মৌসুমে খেলা শুরু করা রাজ্জাক খেলেছেন ২০২০ সাল পর্যন্ত। এর মধ্যে গড়েছেন ভেঙেছেন নানা রেকর্ড। দেশের প্রথম বোলার হিসেবে নিয়েছেন ৬০০ উইকেট। সর্বমোট ১৩৭ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ৬৩৪টি। এ ছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে রাজ্জাক ২৮০ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪১২ উইকেট। লিস্ট ‘এ’তে মাশরাফি বিন মুর্তজার অবশ্য ৪০০ উইকেট রয়েছে। এ ছাড়া স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৯০ ম্যাচ খেলে ৯৯ উইকেট নিয়েছেন।