বিশেষ সম্পাদকীয় : অর্ধযুগ পেরিয়ে গৌড় বাংলা

13

‘যুগ’ শব্দের আভিধানিক অর্থ ‘বারো বছর সময়’, বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী। সে হিসাবে দৈনিক গৌড় বাংলা তার বয়স অর্ধযুগ পার করল। বয়স ধর্তব্য নিলে এখনো শিশুকালই বলা চলে। তবে সেসবকে ছাপিয়ে বলতে হয়, বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সংবাদপত্রশিল্পে দৈনিক গৌড় বাংলা দাঁড়িয়ে গেছে আপন মহিমায়। নিজস্বতা, স্বকীয়তা বজায় রেখে পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে চলেছে গৌড় বাংলা। সফলভাবে ৬টি বছর অতিক্রম করতে পারার মূল কারিগর প্রতিনিধি, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, পত্রিকা বিক্রেতা, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাক্সক্ষীরা। তাদের ভালোবাসা ও আন্তরিকতা না থাকলে এ পথ অতিক্রম করা সহজ হতো না।
আজ ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ; দৈনিক গৌড় বাংলা ৭ম বছরে পদার্পণ করল। ঐতিহাসিক জনপদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অন্যান্য পত্রিকার ভিড়ে ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ ফেব্রুয়ারি পথচলা শুরু হয় এর। ঘুরেফিরে একই কথা বারবার মনের মধ্যে ভেসে উঠে; তাহলো এই তো সেদিন প্রকাশ হলো গৌড় বাংলা। সন্তানের বয়স যতই হোক না কেন- মা-বাবার কাছে সে সর্বদাই শিশু। হয়তো সে জায়গা থেকে আমার এ মনে হওয়ার কারণ।
মার্জনা চেয়ে নিচ্ছি গৌড় বাংলার প্রতিনিধি, পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, পত্রিকা বিক্রেতা, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাক্সক্ষীদের কাছ থেকে। পরপর দুই বছর অর্থাৎ ২০১৯ ও ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কোনো আয়োজন করা হয়নি- এ কারণে। কৈফিয়ত হিসেবে বলতে হয়, নানান ব্যস্ততার কারণে ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দে আয়োজন করা হয়নি। আর ২০২০ খ্রিষ্টাব্দে করা হয় হয়নি এ কারণে যে, গৌড় বাংলার অর্ধযুগে স্মরণীয় আয়োজনের জন্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এবার সেটাও সম্ভব হচ্ছে না, ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও। সকলেই জানেন। তবু বলতে হয়, বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ, প্রায় ১১ মাস ধরে। এই ভাইরাসের প্রভাবে দেশে মার্চ মাস থেকে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ে। বন্ধ হয়ে যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা এখনো বন্ধ রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তা এবং সময়োচিত পদক্ষেপে করোনার অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে করোনা এখনো নির্মূল হয়নি। আশার কথা, বহু প্রত্যাশিত করোনার ভ্যাকসিন দেশে আসা শুরু হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে করোনার টিকা প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনও করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে একযোগে করোনার টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।
আবারো কৈফিয়ত প্রসঙ্গে। করোনার কারণে এখনো সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ মাস্ক পরেই চলতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দৈনিক গৌড় বাংলার অর্ধযুগকে স্মরণীয় করে রাখতে কোনো সাড়ম্বর আয়োজন করা সম্ভবপর হচ্ছে না। এজন্য প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে এও জানিয়ে রাখতে চাই যে, আগামীতে সময় অনুকূলে এলে অবশ্যই সাড়ম্বরে গৌড় বাংলার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্্যাপন করা হবে।
আয়োজন না করলেও গৌড় বাংলা তার প্রতিনিধিদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং কাজে উৎসাহদানের জন্য এবার সেরা প্রতিবেদনের জন্য সম্মাননা হিসেবে ক্রেস্ট প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেরা উপজেলা প্রতিবেদনের জন্য একজন এবং নিজস্ব প্রতিবেদনের জন্য যৌথভাবে দুজন মনোনীত হয়েছেন। চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি গৌড় বাংলায় প্রকাশিত ‘বারো বিঘায় বারোমাসি বারি-১১ আমচাষে বারো মাসই ভালো কাটছে সিরাজুলের’ শিরোনামের সংবাদটি সেরা উপজেলা প্রতিবেদন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। আর এর প্রতিবেদক হলেন গোমস্তাপুর উপজেলা প্রতিনিধি আল-মামুন বিশ্বাস। আর ‘পানি বাড়ে ঘর ডুবে ঠাঁই হয় বাঁধে’ শিরোমের যৌথ সংবাদটি সেরা নিজস্ব প্রতিবেদন হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। যার প্রকাশ হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর। যৌথভাবে নির্বাচিত দুজন হলেন- সাজিদ তৌহিদ ও শাহরিয়ার শিমুল। তিনজনকেই অভিনন্দন। আগামী দিনগুলোয় তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা এবং আরো ক্ষুরধার প্রতিবেদন আশা করছি।
গৌড় বাংলা এমন এক সময়ে ৭ম বছরে পদার্পণ করল, যে বছরটি জাতির জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এই বছরের আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবে বাংলাদেশ। গতবছরটিও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্্যাপন করে বাংলাদেশ। যদিও করোনার কারণে কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল উদ্্যাপন। তবে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটেছে মুজিববর্ষকে ঘিরে। তাহলো সারাদেশের প্রায় ৭০ হাজার ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই হিসেবে সেমি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়েছেন, যা গত ২৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব বাড়ি হস্তান্তর করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ছয় বছর বয়স খুব একটা বেশিও নয়। তবে এই সময়ে আমরা অসম্ভব পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি, শুধুমাত্র আমাদের বস্তুনিষ্ঠতা ও তথ্যনিরপেক্ষতার কারণে। আমাদের পরিবেশিত সংবাদে কলাকৈবল্যের চাকচিক্য না থাকলেও তথ্যনিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়েছে সবসময়Ñ এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যেতে পারে। এই ছয় বছরের পথচলাতে এই মন্ত্র আমাদের সর্বদাই জাগ্রত করেছে। আর তাই তো দৈনিক গৌড় বাংলা জেলার অনেক মানুষের ‘জীবনের কথা সময়ের সঙ্গী’ হয়ে উঠেছে।
একটি দৈনিক পত্রিকার সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস তার পাঠককুল। আর শক্তি বিজ্ঞাপন। এ দুটো বিষয়ই পত্রিকার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞাপনই পত্রিকার অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে। কিন্তু এ কথা বলাই যেতে পারে যে, বিজ্ঞাপনের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গৌড় বাংলা শুধুমাত্র পাঠকের ভালোবাসাতেই ছয়টি বছর নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে। এক্ষেত্রে অবশ্যই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, সেসব শুভানুধ্যায়ীদের; যারা গৌড় বাংলার পথচলার ছয় বছরে বিভিন্ন সময়ে তাদের নিজের, প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের প্রকাশনা টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করেছেন। আশা রাখছি, আমাদের প্রতি পাঠকের ভালোবাসা, আস্থা আগামীতে থাকবে এবং পাঠকসংখ্যা অতীতকে ছাড়িয়ে যাবে। সেই সঙ্গে পুরোনোদের সঙ্গে নতুন করে আরো শুভানুধ্যায়ীদের আমাদের পাশে পাব, বিজ্ঞাপন দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য। পাশাপাশি আন্তরিক শুভেচ্ছাসহ ধন্যবাদ জানাচ্ছি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে।
একটি পত্রিকা একটি পরিবারের মতো। এর শাখা-প্রশাখাও আছে। কেউ সংবাদ পাঠাচ্ছেন, কেউ তা সম্পাদনা করছেন এবং কেউ তা পৃষ্ঠাসজ্জা অর্থাৎ মেকআপ করছেন। প্রত্যেকেই গৌড় বাংলাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাই গৌড় বাংলার ৭ম বছরে পর্দাপণের এই দিনে সকল প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আবারো জানাচ্ছি প্রাণঢালা অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা।
পরিশেষে গৌড় বাংলার ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই পরিবারের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী, এজেন্ট ও পত্রিকা বিক্রেতাদেরও প্রতি রইল আন্তরিক ভালোবাসা ও অভিনন্দন। আর অনন্ত শুভেচ্ছা জানাচ্ছি গৌড় বাংলার অগণিত পাঠকদের।