গৌড়েই শুরু, গৌড়েই আছি

24

সাজিদ তৌহিদ

‘গৌড়’ শব্দটির সঙ্গে বেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। আবার জন্মও গৌড়ের শিবগঞ্জে। তাই বুঝি ‘গৌড়’ আমার পেশাদারিত্বের জীবনে মিশে গেছে। খুলেই বলা যাক।
শখের সাংবাদিকতা শুরু ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে, নাচোল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে। তখন শিবগঞ্জ থেকে নাচোলে বসবাস শুরু করেছি মা-বাবার সঙ্গে। যতদূর মনে পড়ে, রামকিশোর মহলানবীশ সম্পাদিত ঢাকার সাপ্তাহিক এদিন পত্রিকায় সাংবাদিকতার প্রথম পথচলা শুরু। সে সুবাদে সাংবাদিকতার বয়স আটাশ বছর পেরিয়ে গেছে।
এরপর ঢাকার বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করা হয়েছে। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জুন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাপ্তাহিক সীমান্তের কাগজে শুরু থেকে জড়িয়ে পড়ি। চার তরুণের কাগজ ছিল এটি। এরা হলেন- জনাব জাফরুল আলম, জনাব ডাবলু কুমার ঘোষ, জনাব কামাল উদ্দিন ও জনাব রফিকুল আলম। এদের মধ্যে জাফরুল ভাই সম্পাদক ছিলেন এবং এখনো আছেন। অবশ্য পরে কামাল ভাই সীমান্তের কাগজ ছেড়ে চলে যান। নাচোল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকার দৈনিক খবর, মতিউর রহমান চৌধুরী সম্পাদিত দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকায় কাজ করার সুযোগ হয়েছে। শুরু থেকেই ফিচার আইটেমের প্রতি ঝোঁক ছিল; এখনো আছে। তবে অন্য আরো অনেক বিষয় যুক্ত হয়েছে।
মফস্বল সাংবাদিকতার পাঠ চুকিয়ে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বরে ঢাকা যাওয়া। উদ্দেশ্য ছিল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং করার; কিন্তু বাস্তবতা হলো অর্থাভাবে সে সময় এ পথে এগোনো যায়নি। এরপর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দের শুরুতেই ইঞ্জিনিয়ার মাহ্তাব উদ্দিন সম্পাদিত সাপ্তাহিক গৌড় সংবাদের ঢাকা অফিসে যোগদান করি। অর্থাৎ পেশাদার সাংবাদিকতা জীবন শুরু হলো। জেলার সাপ্তাহিক হলেও পত্রিকাটির সম্পূর্ণ কাজ ঢাকায় হতো এবং ঢাকা থেকেই ছাপা হয়ে আসত। পরে ঢাকায় গৌড় সংবাদে আমার সঙ্গী হয়েছিলেন জহিরুল ইসলাম। বর্তমানে পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত এবং ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বে আছেন। বলাবাহুল্য, গৌড় সংবাদের সুবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একনামে পরিচিতি পেয়েছিলাম; যা এখনো অটুট আছে।
সাপ্তাহিক গৌড় সংবাদে খুব বেশিদিন কাজ করা হয়নি। পরের বছরই ছেড়ে দিয়েছিলাম। এরপর শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশনা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়। সে সময় বেশ কিছু সাপ্তাহিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক ও সাহিত্যসহ বেশ কিছু পত্রিকার কাজ হতো আমার কাছে। কিন্তু আবারো দুর্ভাগ্য; কোনো ধরনের বিনিয়োগ না থাকায় ব্যবসাকে এগিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। এরপর ব্যবসার পাশাপাশি কাজের সন্ধানে বের হই। সৌভাগ্যক্রমে ঢাকার পত্রিকা হিসেবে প্রথমেই বিবিসি খ্যাত প্রয়াত সাংবাদিক আতাউস সামাদ স্যারের সাপ্তাহিক এখন-এ কাজ করার সুযোগ পাই। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এখনো এ কথা বলতে হচ্ছে যে, সেই সময় সাপ্তাহিক এখন-এ নিজেকে মেলে ধরার সুযোগই পাচ্ছিলাম না। কিছু অভ্যন্তরীণ কারণে। তবে এখন-এ থাকতেই যোগ দিই প্রথিতযশা সম্পাদক-সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত ড. ফেরদৌস আহমেদ কোরেশীর দৈনিক দেশবাংলায়। ঢাকার সাংবাদিকতা জীবনে দৈনিক দেশবাংলাই ছিল আমার উত্থান পর্ব। এখানে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগের পাশাপাশি মূল্যায়নও হয়েছিল; যা আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে যথেষ্টই সহায়ক হয়েছে।
সে সময় দৈনিক দেশবাংলার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আবু তাহের ভাই। মজার মানুষ ছিলেন, বাজারে রম্য বিষয়ক বইও রয়েছে তার। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতিদিনে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন। এ মানুষটি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়ে কোরেশী ভাইয়ের কথায় সংবাদপত্রে প্রবেশ করেছিলেন। সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি নাচোলে থাকাবস্থায় হলেও পেশাদার জীবনে এই মানুষটির কাছে সাংবাদিকতার অ, আ, ক, খ কিছুটা হলেও শিখতে পেরেছিলাম। তিনি হাতেকলমে শিরোনাম কীভাবে বের করতে হয়, শিরোনাম ছোট কীভাবে করতে হয় প্রভৃতি বিষয়গুলো শিখিয়েছিলেন।
তাহের ভাইয়ের একটা কথা উল্লেখ করতেই হয়। তা হলো কোনো বন্ধু হয়তো তার কাছে একটি খবর ছাপার অনুরোধ নিয়ে এলেন। দেখা গেল খবরটি দেয়ার মতো নয়। এসব ক্ষেত্রে তাহের ভাই আমাকে ডাক দিয়ে ওই ভদ্রলোকের সামনেই বলতেন, ‘তৌহিদ, এই খবরটা অবশ্যই তেরর পাতায় দিয়ে দাও।’ এ কথা শোনার পর ভেতরে কোনোরকমে হাসি চেপে রাখতাম। কেননা, খবরটি না দিলেও চলবে এ কথা বুঝিয়ে দিলেন তেরর পাতায় দেয়ার কথা বলে। তখন দেশবাংলা ১২ পৃষ্ঠা বের হতো। প্রথমবার খুব অবাক হয়েছিলাম; পরে তাহের ভাই ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন।
নগর সম্পাদক ছিলেন কাজী রফিক; কবি এবং আড্ডাবাজপ্রিয় মানুষ। বর্তমানে দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক। তিনি আমাকে অত্যধিক ¯েœহ করতেন। দেশবাংলায় আমার দ্রুত উপরে ওঠার জন্য তারও ভূমিকা ছিল এবং এজন্য কিছু মানুষের সঙ্গে তাকে বাকবিত-ায়ও জড়াতে হয়েছিল। সংবাদে থাকা অবস্থায় তিনি আমাকে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে চেয়েছিলেন। কিন্তু যোগ দেয়া হয়নি। কারণটা নিচে উল্লেখ থাকল।
আরেকজন ছিলেন তপন দাশ। অমায়িক মানুষ। তার কাছ থেকেও শিখেছি অনেক। এখন তিনি সমকালে অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। দেশবাংলায় থাকতে কিছু শিক্ষানবিশ রিপোর্টার ছিলেন। কেউ কেউ আমার তত্ত্বাবধানে ছিলেন। এখন তারা প্রতিষ্ঠিত। ভাবতেও ভালো লাগে।
দেশবাংলায় একটা সময় বেতন নিয়ে টানাপোড়ন শুরু হয়, সে সময় যা ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা সংবাদপত্রশিল্পে। দেশবাংলা ভালো লাগার প্রতিষ্ঠান হলেও পেটের তাগিদে শিফট ইনচার্জ হিসেবে যোগ দিই আলমগীর ভাইয়ের একাত্তর নিউজ সার্ভিসে (ইএনএস)। অফিস ছিল ঢাকার ইস্কাটনে। বর্তমানে আলমগীর ভাই বার্তা টুয়েন্টিফোর চালাচ্ছেন। যাহোক ইএনএস ছেড়ে আবারো পুরোনো ডেরায় ফিরে যাই অর্থাৎ দেশবাংলায়, সহকর্মীদের আগ্রহে।
বলাবাহুল্য, সপ্তম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের আগে ঢাকায় সংবাদপত্রে চাকরি ছিল কিছুটা অস্থিরতায় ভরপুর। আজ এখানে তো কাল সেখানে। এভাবেই চলত। আমার ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বরে দেশবাংলা ছেড়ে যোগ দিই নাঈমুল ইসলাম খান সম্পাদিত দৈনিক আমাদের সময়ে। সেখানে চাকরি বেশিদিন করা হয়নি, পরিবেশগত কারণে। পরের বছর জানুয়ারিতে আবারো যোগ দিই আতাউস সামাদ স্যারের সাপ্তাহিক এখন-এ। তবে পুরো দায়িত্ব নিয়ে। তিন মাসের মধ্যেই স্যারের আস্থাভাজন হতে পেরেছিলাম এবং পুরো পত্রিকার দায়িত্ব আমার কাঁধে ছেড়ে দিয়েছিলেন। বলতেই হয় যে, সাপ্তাহিক এখন-এর চূড়ান্ত মেকআপের দিন স্যার অফিসে থাকেননি, এমনটি কখনো ঘটেনি। রাত ২টা-৩টা পর্যন্ত কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু আমার ওপর স্যার কীরূপ আস্থা পেয়েছিলেন জানি না, তিন মাস পর পত্রিকাটির মালিকানা বিক্রির আগ পর্যন্ত স্যার মেকআপের দিন সময় দেননি। এটা আমার জন্য গর্বেরই বিষয়।
সাপ্তাহিক এখন তিন মাসের মাথায় আয়-ব্যয় সমানে নিয়ে এসেছিলাম। সাপ্তাহিক রাজনৈতিক পর্যালোচনাসহ এখন-এর প্রায় প্রতি সংখ্যার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিতে হতো। এ তালিকায় অনেকেরই নাম নেয়া যায়, সেদিকে যাচ্ছি না। যাহোক, পত্রিকাটি সুশীল সমাজে বেশ আলোচনায় ছিল; সাক্ষাৎকারের জন্য।
স্যারের কাছাকাছি হওয়ার সুযোগে একটা বিষয় সিরিয়াসলি ভাবছিলাম। তাহলো নিজে সাপ্তাহিক পত্রিকা বের করলে স্যারের মতো মানুষকে বেতন দেয়ার ক্ষমতা ছিল না; বরং সাপ্তাহিক এখন যদি স্যারের নামে চালিয়ে বাজার ধরতে পারি তবে সেটাও মন্দ নয়। এই ভাবনা নিয়েই এগোচ্ছিলাম। কিন্তু বাধ সাধে স্যারের পরিবার। পরিবারের চাপে স্যার পত্রিকাটি বিক্রি করে দিতে বাধ্য, আর আমারও স্বপ্নের মৃত্যু ঘটে। পত্রিকাটি যিনি কিনে নিয়েছিলেন, তার অধীনে কাজ করার ইচ্ছা ছিল না। বিএনপি ঘরানার এই মানুষটির নাম এই লেখায় নাইবা নিলাম।
অবশ্য আরেকটা কথা বলা হয়নি। তাহলো এখন-এ থাকার সময় প্রথম দিকে দেশের নামকরা দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় যুগ্ম বার্তা সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। সে সময় সংবাদের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন খন্দকার মনীরুজ্জামান ভাই। যিনি গতবছর প্রয়াত হয়েছেন। মনীরুজ্জামান ভাই আমাকে যুগ্ম বার্তা সম্পাদক হিসেবে নিতে চেয়েছিলেন শুধু এই কারণে যে, আমি তখন আতাউস সামাদ স্যারের সাপ্তাহিক এখন দায়িত্ব নিয়ে প্রকাশ করছি- এটাকে যোগ্যতা হিসেবে নিয়ে। আর আমারও মনে হয়েছিল যে, কেনইবা তাহলে আতাউস সামাদ স্যারকে ছেড়ে যাব। আরেকটি কারণ ছিল, তাহলো ওই সময় সংবাদের বেতন অনিয়মিত ছিল। যে কারণে সংবাদে যোগ দেয়া হয়নি।
২০১০ খ্রিষ্টাব্দের মাঝামাঝিতে দৈনিক ইত্তেফাকে চুক্তিভিত্তিক কাজের সুযোগ পাই। সেখানে কাজের প্রমাণ রাখতে পেরেছিলাম বলেই স্বয়ং পত্রিকাটির মালিক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু স্থায়ী নিয়োগ হাতে পাওয়া হয়নি। তার আগেই আমাকে ঘিরে দুটি পক্ষের মধ্যে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে; যার দায়ভার আমারও নয়। আর ওই ঘটনার পর আমারও ইচ্ছে হয়নি ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করবার; তা সে যত বড়ই প্রতিষ্ঠান হোক না কেন।
সাংবাদিকতা জীবনে আদর্শ ধরে রাখার চেষ্টা করে গেছি সবসময়। কতটুকু পেরেছি, তার মূল্যায়নের ভার অন্যদের হাতে ছেড়ে দিলাম। এই আদর্শের কারণে দৈনিক কালের কণ্ঠ প্রকাশ হওয়ার সময় আবেদনটাও জমা দিইনি। যা শুনে অবাক হলেও প্রকৃত কারণটা জেনে খুশি হয়েছিলেন ফেরদৌস আহমদ কোরেশী ভাই। শুধু বলেছিলেন, ‘তোমার মতো ক’জনইবা ভাবে?’
ইত্তেফাকের পর আরেকটি প্রতিষ্ঠানে নিতান্তই ইচ্ছের বিরুদ্ধে যোগ দিয়েছিলাম; শুধু চাকরি করতে হবে এই ভেবে। ছেড়ে দেবার ইচ্ছা থাকলেও ছাড়া হয়নি। কেননা ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চে এক দুর্ঘটনায় ছোট বোন মারা যায়। তারপর থেকে গ্রামের বাড়ি ফিরে আসার তাগিদ অনুভব করি বাবা-মায়ের দেখভালের জন্য। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের এপ্রিলে ঢাকার পর্ব পুরোপুরি চুকিয়ে নাচোল চলে আসি। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এখানে এসে নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার আগেই মায়ের ক্যানসার ধরা পড়ে, ওই বছরের অক্টোবরে। এরপর মাকে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাই। ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত চলে নাচোল-কলকাতা দৌড়ঝাঁপ।
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে প্রয়াস মানবিক উন্নয়ন সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক হাসিব ভাই ডেকে পাঠান। দৈনিক গৌড় বাংলা শুরু করার জন্য সহযোগিতা চান। সানন্দে রাজি হই এবং এক সপ্তাহ প্রতিদিন সন্ধ্যায় নাচোল থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আসতাম, সহযোগিতার জন্য। গৌড় বাংলার আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্রটি আমার হাত দিয়েই তৈরি হয়। তারপর থেকেই গৌড় বাংলার সঙ্গে সম্পর্ক। আর সম্পর্কের সূত্রপাত এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আজিজুর রহমান শিশির ভাইয়ের মাধ্যমে। ঢাকায় গৌড় সংবাদে যখন ছিলাম, শিশির ভাই তখন জেলা অফিসের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সুবাদে শিশির ভাইয়ের সঙ্গে সম্পর্কটা পুরোনো।
২০১৯ খ্রিষ্টাব্দের শুরুর দিকে আবারো হাসিব ভাই ডেকে পাঠান। ডাকে সাড়া দিয়ে দেখা করি। তিনি আমাকে গৌড় বাংলায় কাজ করার জন্য সরাসরি প্রস্তাব দেন। আমিও না করিনি। কেননা আল্লাহর অশেষ রহমতে আম্মা সুস্থ; আর রুটিন চেকআপের জন্য মাকে নিয়ে আব্বাই কলকাতা যেতেন। তাই না আর করিনি। ওই বছরের ৯ মার্চে আরেক গৌড়ে অর্থাৎ দৈনিক গৌড় বাংলায় বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করি। এখনো এখানেই আছি।
গৌড় বাংলা নিয়ে অনেক কিছুই বলা যায়। আজ আর সে প্রসঙ্গে গিয়ে লেখার পরিধি বাড়াতে চাচ্ছি না। শুধু এটুকুই বলব, আপাদমস্তক সাংবাদিক হিসেবে জীবনযাপন করছি। এখন যে বয়সে এসে দাঁড়িয়েছি, তাতে এ পেশাতেই বাকি জীবন পার করতে হবে তা সহজে অনুমেয়। কেননা অন্য কোনো পেশায় নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া হয়তো সহজ হবে না। তবে সেটা ভবিষ্যৎ।
পরিশেষে গৌড়ের আমজনতার কণ্ঠস্বর হিসেবে টিকে থাকুক দৈনিক গৌড় বাংলা- ৭ম বছরে পদার্পণের দিনে এই শুভ কামনা করি।

সাজিদ তৌহিদ : লেখক ও বার্তা সম্পাদক, দৈনিক গৌড় বাংলা