দেশে ২৭ জানুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ শুরু হচ্ছে : প্রথমে দেয়া হবে এক স্বাস্থ্যকর্মীকে

16

দেশে আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে করোনার টিকা দেয়ার কাজ শুরু হবে। প্রথমে একজন নার্সকে এ টিকা দেয়া হবে। ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মান্নান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, আগামী ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে একজন স্বাস্থ্যকর্মীকে দিয়ে দেশে শুরু হতে যাচ্ছে করোনা টিকার প্রয়োগ। পরবর্তীতে আরো চারটি হাসপাতাল এবং আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে করোনার টিকা প্রয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে। সেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনলাইনে যুক্ত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, আগামী ২৭ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে অন্যান্য পেশার মানুষও থাকবে। সেখানে আরো ২৪ জনসহ মোট ২৫ জনের একটি প্রতিনিধিত্বশীল গ্রুপ থাকবে। সেই তালিকায় চিকিৎসক, নার্স, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, পুলিশ, সেনাবাহিনী, সাংবাদিকসহ অন্য পেশার মানুষ যুক্ত থাকবে। ‘পরদিন ২৮ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েও টিকা প্রয়োগ শুরু হবে। এসব হাসপাতালের ৪০০ থেকে ৫০০ জন স্বাস্থ্যকর্মীদের দিয়েই এ কার্যক্রম শুরু হবে’- বলেন স্বাস্থ্য সচিব। তিনি বলেন, তাদের টিকা দেয়ার পর একসপ্তাহ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে এবং পরে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
এর আগে ২০ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে ভ্যাকসিনবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২৭ অথবা ২৮ জানুয়ারি কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ‘ড্রাই রান’বা মহড়া শুরুর মাধ্যমে দেশে করোনা টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য সচিব আবদুল মানান।

গত ১১ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছিল, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে করোনা ভাইরাসের টিকা জাতীয়ভাবে শুরু হবে। তবে এই পরিকল্পনা পরিবর্তন হতে পারে জানিয়ে আবদুল মান্নান বলেন, অন্য হাসপাতালেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু করা হতে পারে। কিন্তু যে হাসপাতালেই হোক সেখানে প্রথম দিনে সিভিল সোসাইটির বিভিন্ন স্তরের ২০ থেকে ২৫ জনকে টিকা দেয়া হবে।
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, সেখানে চিকিৎসক, নার্সসহ একজন করে শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, সিভিল সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিকদের নেয়া হবে। ক্রস সেক্টর থেকে বাছাই করে প্রথম দিন ২০ থেকে ২৫ জনকে এই টিকা দেয়া হবে। পরবর্তীতে ড্রাই রান বা টেস্ট হিসেবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল ও মুগদা জেনারেল হাসপাতালকে বাছাই করা হয়েছে। সেখানে ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে টিকা দেয়া হবে। এরপর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুযায়ী তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে, তাদের মধ্যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় কিনা সেটা দেখা হবে।
আবদুল মান্নান বলেন, এরই মধ্যেই গত ২০ জানুয়ারি ভারত সরকারের উপহার দেয়া অক্সফোর্ড অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিশিল্ড টিকা দেশে এসে পৌঁছায়। আর বাংলাদেশের কিনে নেয়া ৩ কোটি ডোজের ভেতরে ৫০ লাখ আসছে এ মাসের ভেতরে। এই ৭০ লাখ টিকার ভেতরে ৬০ লাখ টিকা দেয়া হবে প্রথম মাসে, দ্বিতীয় মাসে দেয়া হবে ৫০ লাখ, তৃতীয় মাসে দেয়া হবে আবার ৬০ লাখ। প্রথম মাসে টিকা পাওয়াদের দ্বিতীয় ডোজ দেয়া হবে তৃতীয় মাসে।
স্বাস্থ্য সচিব জানান, এরই মধ্যে ভ্যাকসিনের জন্য সিরিঞ্জসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। টিকাদানকারীদের প্রশিক্ষণ শেষ পর্যায়ে, আগামী ৩০ জানুয়ারি এ প্রশিক্ষণ শেষ হবে। তারা এরই মধ্যে প্রশিক্ষিত। টিকা নিয়ে বাংলাদেশ অভিজ্ঞ, পুরো বিশ্বেই প্রশংসিত।