ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে দলকে পথ দেখালেন মোহাম্মদ রিজওয়ান

11

ডেভন কনওয়ের ফিফটিতে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড। তবে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে দলকে পথ দেখালেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। কিপার-ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে স্বাগতিকদের ৪ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে সফরকারীরা। নেপিয়ারে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ৪ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। প্রথম দুই ম্যাচে জেতা নিউ জিল্যান্ড সিরিজ জিতেছে ২-১ ব্যবধানে। কনওয়ের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ১৭৩ রান করে নিউ জিল্যান্ড। রিজওয়ানের প্রথম ফিফটিতে ২ বল বাকি থাকতে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে পাকিস্তান। আগের ২৫ ম্যাচে ফিফটি ছিল না একটিও। সর্বোচ্চ ছিল অপরাজিত ৩৩। এই সিরিজ দিয়েই খেলছেন ওপেনিংয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে সম্ভাবনা জাগিয়েও বড় করতে পারেননি ইনিংস। এবার পারলেন, খেললেন ৫৯ বলে তিন ছক্কা ও ১০ চারে গড়া ৮৯ রানের চমৎকার ইনিংস। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে টিম সাইফার্টের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা পায় নিউ জিল্যান্ড। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিয়ে যাওয়া মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়ে ৪০ রানের শুরুর জুটি ভাঙেন হারিস রউফ। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের পর সাইফার্টকেও বোল্ড করে দেন ফাহিম আশরাফ। উইলিয়ামসন ৪ বল খেলে করেন ১ রান। ২০ বলে তিন ছক্কা ও দুই চারে কিপার-ব্যাটসম্যান সাইফার্ট করেন ৩৫। সেখান থেকে দলকে পৌনে দুইশ রানের কাছে নিয়ে যান কনওয়ে। পঞ্চম উইকেটে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন গ্লেন ফিলিপস। ২০ বলে চারটি চারে ৩১ রান করা মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ৫১ রানের জুটি ভাঙেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। শেষ ওভারে ফেরার আগে কনওয়ে করেন ৬৩ রান। তার ৪৫ বলের ইনিংসে সাত চারের পাশে একটি ছক্কা। দারুণ বোলিংয়ে ২০ রানে ৩ উইকেট নেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার আশরাফ। খরুচে বোলিংয়ে দুটি করে উইকেট নেন আফ্রিদি ও রউফ। রান তাড়ায় পাকিস্তানের উদ্বোধনী জুটিও ভাঙে ৪০ রানে। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটিতে দলকে দৃঢ় ভিতের উপর দাঁড় করান রিজওয়ান ও মোহাম্মদ হাফিজ। তাদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান আসে বেশ দ্রুত। ৩৮ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করে জুটির রান। আগের ম্যাচে অপরাজিত ৯৯ রানের দারুণ ইনিংস খেলা হাফিজকে ফিরিয়ে বিপজ্জনক হয়ে উঠা জুটি ভাঙেন স্কট কুগেলাইন। রিজওয়ানকে কিছুটা সঙ্গ দিয়ে ফিরে যান খুশদিল শাহ। ১৯তম ওভারে পরপর দুই বলে আশরাফ ও শাদাব খানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে কিছুটা চাপে ফেলেন টিম সাউদি। দলকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে ফিরে যান রিজওয়ানও। কিন্তু জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। বিশাল এক ছক্কায় দলকে বন্দরে নিয়ে যান ইফতিখার আহমেদ। দুই দলের মধ্যে পার্থক্য গড়ে দেওয়া ইনিংসে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন রিজওয়ান। প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি করা সাইফার্ট জেতেন সিরিজ জেতার পুরস্কার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউ জিল্যান্ড: ২০ ওভারে ১৭৩/৭ (গাপটিল ১৯, সাইফার্ট ৩৫, উইলিয়ামসন ১, কনওয়ে ৬৩, ফিলিপস ৩১, নিশাম ২, কুগেলাইন ১৪, সাউদি ৬*, জেমিসন ০*; নিশাম ৪-০-৪৩-২, হাসনাইন ৪-০-২৯-০, রউফ ৪-০-৪৪-২, আশরাফ ৪-০-২০-৩, শাদাব ৪-০-৩৬-০)
পাকিস্তান: ১৯.৪ ওভারে ১৭৭/৬ (রিজওয়ান ৮৯, হায়দার ১১, হাফিজ ৪১, খুশদিল ১৩, আশরাফ ২, শাদাব ০, ইফতেখার ১৪*, তালাত ০*; বোল্ট ৪-০-৪৩-০, সাউদি ৪-০-২৫-২, জেমিসন ২.৪-০-২২-১, কুগেলাইন ৪-০-৪০-২, সোধি ১-০-০-০, নিশাম ৪-০-৩৭-১)
ফল: পাকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে জয়ী নিউ জিল্যান্ড
ম্যান অব দা ম্যাচ: মোহাম্মদ রিজওয়ান
ম্যান অব দা সিরিজ: টিম সাইফার্ট