ব্রহ্মপুত্রে বাঁধ দিয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প করছে চীন

24

ব্রহ্মপুত্র নদের উজানে অর্থাৎ ‘ইয়ারলুং জ্যাংবো’ নদীতে বাঁধ দিয়ে ৬০ গিগাওয়াটের বিশাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প শুরু করতে চলেছে চীন। ইতোমধ্যেই যার প্রাথমিক কাজও শুরু করে দিয়েছে দেশটি। এনডিটিভি জানায়। গত সোমবার পাওয়ার কন্সট্রাকশন অব চায়নার চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিইয়ংয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা। বেইজিংয়ে এক কনফারেন্সে ব্রহ্মপুত্রের এই বাঁধকে ঐতিহাসিক সুযোগ আখ্যায়িত করে ইয়ান ঝিইয়ং বলেছেন, এটি কেবলমাত্র দেশের শক্তি পরিকল্পনাগুলো পূরণেই সহায়তা করবে না, একইসঙ্গে পানি সরবরাহের সুরক্ষাও জোরদার করবে।

এরই অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুষ্পষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আগামী বছর ১৪তম এই চূড়ান্ত পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। চীন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ১৭৬০ মাইল দীর্ঘ ব্রহ্মপুত্র নদ। হিমালয় থেকে উৎপত্তি হয়ে তিব্বতের ভেতর দিয়ে তা ব্রহ্মপুত্র নামে অরুণাচল হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিব্বতের অংশে এই নদীর নাম ইয়ারলাং স্যাংপো। আর এখানেই জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য নদীর ওপর আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়নার চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিওং সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই নদীর তলদেশে জলবিদ্যুত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর ফলে পানি সম্পদ এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা বজায় থাকবে। তিনি বলেন, ইতিহাসে সমান্তরাল কিছু নেই।এটি চীনা জলবিদ্যুৎ শিল্পের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হবে।

এনডিটিভি বলছে, আগামী বছরের শুরুর দিকে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে (এনপিসি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের পর এই পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিব্বতে এই নদীর ওপর বাঁধ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভারত ও বাংলাদেশের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ভাটিতে পানির প্রবাহ কমে যাবে। উদ্বেগের কারণ, বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ কমে যেতে পারে। এতে একটি অংশের মানুষের জীবন ও জীববৈচিত্রে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটতে পারে।