নাচোলে ৫ একর বন্দোবস্ত পাওয়া জমি ৩০ বছর পর বুঝে পলে ৬ ভূমহিীন পরবিার

41

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ৩নং নাচোল ইউনিয়নের ঝিকড়া মৌজা। এখানকার প্রায় ১০ একর জমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেয়া হয় ১৯৮৯-৯০ সালে। তৎকালীন জেলা প্রশাসক এসব সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত প্রদান করেন। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩০ বছর। কিন্তু জমি বন্দোবস্ত পেলেও তা ভোগদখল করতে পারেননি বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারগুলো।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর সেসব জমি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধার করে বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারদেরকে বুঝিয়ে দেয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার এর অংশ হিসেবে ৬ ভূমিহীন পরিবারের মধ্যে ৫ একর জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। উপজেলা প্রশাসন উদ্ধারকৃত জমিতে লাল নিশান টাঙিয়ে দিয়েছে।
জমি বুঝে পাওয়া ভূমিহীনরা হলেন- উপজেলার নাচোল ইউনিয়নের হাঁকরইল গ্রামের শফিকুল ইসলাম, ঝিকড়া গ্রামের আব্দুল গফুর, ময়ান আলী, তাহির উদ্দীন, বরিজ উদ্দীন ও নুরফা বেগম।
জানা গেছে, উল্লিখিত ৬ পরিবার ছাড়াও আরো কয়েকটি ভূমিহীন পরিবারকে ১৯৮৯-৯০ সালে সরকারি খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া হলেও, সে জমি প্রভাবশালীরা দখল করে রেখেছিলেন। ভূমিহীন পরিবারগুলো প্রভাবশালীদের ভয়ে বন্দোবস্ত পাওয়া জমির ভোগদখল থেকে বিরত ছিলেন। সম্প্রতি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে উঠে আসে এবং ৯টি ভূমিহীন পরিবার জমি উদ্ধারের আশায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিসের নথি ঘেঁটে জানা পায়, ঝিকড়া মৌজায় ১০ একর জমি ভূমিহীনদের বন্দোবস্ত দেয়া হলেও বাস্তবে তারা দখল পায়নি। এরপর উপজেলা প্রশাসন দখলদারদের কাছ থেকে ভূমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেয়া জমি উদ্ধারে তৎপর হয়। মঙ্গলবার ৫ একর জমির উদ্ধার করে ৬টি ভূমিহীন পরিবারকে বুঝিয়ে দেয়া হয়। বাকিগুলোও আগামীতে উদ্ধার করে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার।
মঙ্গলবার জমি বুঝিয়ে দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কাদের, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা, নাচোল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম রেজা, ভূমি অফিসের কানুনগো এরফান আলী, সার্ভেয়ার মাহমুদুল হাসান, ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তাসহ অন্য কর্মচারী ও গণমাধ্যকর্মীরা।
এদিকে ৩০ বছর পর বন্দোবস্ত পাওয়া জমি ফিরে পেয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ৫ ভূমিহীন পরিবার।