চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাজারে মিলছে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে আলুও

55
বিপাশা রবি দাস

দেশে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ও ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতে ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশের নদ-নদীতে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। গত বৃহস্পতিবার থেকে আবারো শুরু হয়েছে ইলিশ মাছ ধরা ও বেচাকেনা। নিষেধাজ্ঞা ওঠার পর শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিউমার্কেট বাজারে দেখা মিলেছে মাছের রাজা ইলিশের। পাশাপাশি দেখা মিলেছে আলুরও। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার থেকে ৫ দিন নিউমার্কেট বাজারে খুচরা পর্যায়ে আলু বিক্রি না হলেও গত বুধবার আবারো এর বেচাকেনা শুরু হয়েছে।
নিউমার্কেট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় সাইজের ইলিশ মাছ নিয়ে বসে আছেন বিক্রেতারা। অনেক দিন পর বাজারে না পাওয়ায় অন্যান্য মাছের তুলনায় ক্রেতাদের চাহিদা ছিল ইলিশের প্রতি। কয়েকজন মাছ বিক্রেতা জানান, বৃহস্পতিবার থেকে বাজারে ইলিশ মাছ ঢুকছে আর আজ শুক্রবার সকালেই এর বেচাকেনা শুরু হয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজি দরে। তারা আরো জানান, এবারে বেশির ভাগ ইলিশের ওজন এক কেজির বেশি। বরিশাল থেকে এই মাছ আসছে। গভীর সমুদ্র থেকে এখনো ইলিশ আসেনি তাই দাম একটু বেশি। তবে আমদানি ভালো হলে ইলিশের দাম সামনে সপ্তাহ থেকে কমতে পারে বলে মনে করেন তারা। বিক্রেতারা আরো জানান, বাজারে অন্যান্য মাছের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কম।
সোহেল নামের এক ক্রেতা জানান, অনেক দিন পর ইলিশ পেয়ে খুব ভালো লাগছে, দাম খুব বেশি না। আগের মতোই দাম। তবে আরেক ক্রেতা এনামুলের কাছে ইলিশের দাম একটু বেশিই মনে হয়েছে।
এদিকে, গত শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত নিউমার্কেট বাজারে আলুর দেখা পাওয়া যায়নি। বুধবার থেকে আলু বিক্রি শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে কয়েকজন বিক্রেতা জানান, পুরাতন বাজারে আড়তদাররা খুচরা ব্যবসায়ীদের জনপ্রতি ৫ কেজির বেশি আলু দেননি। চাহিদা ১ মণের, ৫ কেজি দিয়ে চলবে না; তাই ওই সময়ে আলু বিক্রি করা হয়নি। কারণ হিসেবে তারা বলেন, সরকারি নির্দেশ মোতাবেক খুচরায় ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে হবে, তাই তারা আলু বিক্রি করছেন না। বুধবার থেকে ইচ্ছেমতো আলু কিনতে পারার পরই আগের দামে (৪০ টাকা কেজি) বিক্রি শুরু হয়েছে।
বাজারে আলু বাদে অন্যান্য সবজির দাম কমবেশ অপরিবর্তি রয়েছে। পটল ৫৫-৬০ থেকে কমে ৪৫-৫০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ থেক কমে ১৬০ টাকা, কচু ৪০-৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, শশা ৪০ টাকা, বিদেশী করলা ৭০ টাকা এবং দেশী করলা ১০০ টাকা, বাঁধাকপি ৬০ টাকা, শিম ১২০ টাকা এবং টমেটো ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুদিবাজারে দেশী পেঁয়াজ ৮০-৯০ থেকে কমে ৭০-৭৫ টাকা, বিদেশী পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকা, দেশী রসুন ১০০-১২০ টাকা, বিদেশী রসুন ৮০-৮৫ টাকা এবং আদার দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি। ডিম ৩৫ থেকে কমে ৩২ টাকা হালি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
মুরগি বাজারে ব্রয়লার ১১০ থেকে বেড়ে ১২০ টাকা, পাকিস্তানি সোনালি ১৭০ থেকে কমে ১৬০ টাকা, লেয়ার ২০০ টাকা, দেশী মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর গরু ও খাসির মাংস গত সপ্তাহের দামেই বিক্রি হচ্ছে।