নিয়ামতপুরে আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু

23

সিরাজুল ইসলাম, নিয়ামতপুর

নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় চলতি আমন মৌসুমের ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে উপজেলাজুড়ে পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হবে। ধানের বাম্পার ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর আশা করছে এ বছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।
বাজারে ধানের দাম ন্যায্যমূল্য থাকায় কৃষকরা আগাম ধান বিক্রি করে দিচ্ছে। কারণ পরবর্তীতে বাজার কমে যেতে পারে এমন আশঙ্কায়। উপজেলায় সব বাজারগুলোয় প্রতি মণ ধান ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা দর পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৬৬৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে ২৯ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে আমন আবাদ হয়েছে। আবাদকৃত জাতের মধ্যে স্বর্ণা ১৭ হাজার ৯৪৫ হেক্টর, ব্রি-৩৪ ২ হাজার ৫১৫ হেক্টর, ব্রি-৪৯ ৪৮০ হেক্টর, ব্রি-৫১ ৪ হাজার ২২০ হেক্টর, ব্রি-৫২ ২৫ হেক্টর, ব্রি-৭১ ২ হেক্টর, ব্রি-৭৫ ৩৩ হেক্টর, ব্রি-৮০ ২ হেক্টর, ব্রি-৮৭ ৪২ হেক্টর, বিআর-২২ ১২ হেক্টর, বিনা-৭ ১২ হেক্টর, বিনা-১৭ ১৩ হেক্টর এবং বিন্নাফুলী ৪ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমীর আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহেদুজ্জামান জানান, এ বছর উপজেলায় ২৯ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৬ মেট্রিক টন বেশি। এবারের চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিল ৪৭ হাজার ৮২০ মেট্রিক টন। এবার ফলন ভালো হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমনের বাম্পার ফলনের কারণ হলো, আবহাওয়া অনুকূল পরিবেশ ও পানির অভাব নেই। আবার ডিএপি সারের মূল্য কম হওয়ায় কৃষকেরা জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডিএপি সার ব্যবহার করতে পারায় ফসলের বাম্পার ফলন হচ্ছে।
উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, উপজেলায় উন্নত জাতের বীজ, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও উৎপাদনের লক্ষে এবার ৪০টি প্রদর্শনীর ব্যবস্থা হয়েছে। কৃষকদের উৎপাদনের ক্ষেত্রে জমিতে পাচিং, আলোক ফাঁদ, উঠান বৈঠক, রোগবালাই দমনে লিফলেট বিতরণ ব্যবস্থাও হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় রোগবালাই অনেকটাই কম ছিল। ফলে আমন ধানের বাম্পার ফলন হচ্ছে।
জিনপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল রাজাক, সিদাইন গ্রামের আব্দুল মজিদ চন্দননগর গ্রামের গেদুলালের সাথে কথা হলে তারা জানান, আগাম জাতের স্বর্ণা-৫ ধান করে ফলন ও দাম ভালো পাওয়া যাচ্ছে। প্রতি বিঘা জমিতে ২২ থেকে ২৫ মণ ধান হচ্ছে। আবার একই জমিতে আরেকটি বাড়তি ফসল আলু বা সরিষা চাষ করে ইরি ধানও সময়মতো বপন করা যাবে। এর ফলে আমরা বাড়তি ফসল করে বেশি লাভ পাচ্ছি।