ইতিহাসের স্বার্থে জেল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা দরকার : ওবায়দুল কাদের

16

ইতিহাসে সত্যের স্বার্থে ও নতুন প্রজন্মকে জানাতে জেল হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করা দরকার বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘জেল হত্যাকান্ডের অনেক রহস্য উন্মোচন এখনো হয়নি। নতুন প্রজন্মের জন্য এ রহস্য খুঁজে বের করতে হবে।’
ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজধানী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পনেরই আগস্ট ও ৩রা নভেম্বর একই সূত্রে গাঁথা এবং একই চক্রান্তের ধারাবাহিকতা। একাত্তরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এই দুটি কলংকিত হত্যাকান্ড সংগঠিত করা হয়েছে। অভিভাবকশূন্য করতে বঙ্গবন্ধু হত্যা আর নেতৃত্ব শূন্য করতেই ৭১-এর পরাজিত শক্তি জেলহত্যা সংঘটিত করেছিল।’ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় নেতাদের হত্যা করে সেদিন তারা আমাদের নেতৃত শূন্য করতে চেয়েছিল। ৩ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর কেন জেনারেল খালেদ মোশাররফ, কর্নেল হুদা, কর্নেল হায়দারসহ অসংখ্য সেনাবাহিনীর অফিসারকে, জওয়ানকে সেদিন সিপাহী জনতার বিপ্লবের নামে হত্যা করা হয়েছিল, তার অনেক রহস্য এখনো উন্মোচন হয়নি। ইতিহাসে সত্যের স্বার্থে এবং আগামী প্রজন্মকে সব বিষয়ে জানাতে আমাদের এ বিষয়টি উদ্্ঘাটন করে বের করা দরকার।’
এরপর বনানীর কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় চার নেতার শাহাদাৎবার্ষিকীতে এটাই শপথ। বাংলাদেশে এখনো স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক অপশক্তির চক্রান্ত ষড়যন্ত্র থেমে যায়নি। কাজেই আজ আমরা শপথ করব, আমরা আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে তথা সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষকে সমূলে উৎপাটন করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করব।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামের এক বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব বলেছেন, সৎ ও যোগ্য নেতার অভাব। আমি বলব, আয়নায় নিজের চেহারাটা দেখুন, এ দেশে দুর্নীতির রাজনীতি প্রতিষ্ঠানিকীকরণ যারা করেছেন, তারা হলো বিএনপি। পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন। সেই বিএনপির মুখে সততার রাজনীতির কথা শোভা পায় না।’ তিনি বলেন, ‘এ দেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু হচ্ছে সৎ এবং যোগ্য নেতা। বঙ্গবন্ধুর পর অর্থাৎ পঁচাত্তর পরবর্তীতে সবচেয়ে সৎ এবং যোগ্য নেতা বিশ্বনন্দিত শেখ হাসিনা।’