সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলা ইউরোপে ফের কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ

0

ইউরোপীয় দেশগুলো করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় নতুন করে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সম্পর্কে বৃহস্পতিবার ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে ইউরোপীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দেয়ার পর এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
কোভিড-১৯ দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় ও নানা সামাজিক কর্মকা-ে বাধা সৃষ্টি করছে। কোভিড-১৯ ক্ষমতার দোরগোড়ায়ও পৌঁছে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী জো বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিস তার এক কর্মী করোনা সংক্রমিত হওয়ায় সফর স্থগিত করেছেন এবং ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লেইন একই কারণে হঠাৎ করেই ব্রাসেলসে এক সম্মেলন ত্যাগ করেছেন।
করোনা ভাইরাস সংকট নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের নজির হিসেবে ফ্রান্স পুলিশ দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বাসা তল্লাশি করেছে। ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে।
ইইউ’র রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইসিডিসি উচ্চহারে সংক্রমণ ও করোনা পজিটিভ এলাকার একটি মানচিত্র হস্তান্তর করেছে, এতে ৩১টি দেশের অর্ধেকের বেশি দেশে উচ্চমাত্রার সংক্রমণের কথা বলা হয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে নন-ইউরোপীয় দেশও রয়েছে। বিরতিহীন করোনা সংক্রমণের কারণে ইংল্যান্ডে পারিবারিক অনুষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। কঠোর অবরোধ আরোপে লাখ লাখ লোক বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছে। প্যারিসে এবং অপর আরো ৮টি নগরীতে কারফিউ জারি করা হচ্ছে এবং জার্মানিতে লোকদের ভিড় করার ক্ষেত্রে নতুন করে সীমাদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। প্রধান নগরীসহ রেড জোন এলাকায় আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। পোল্যান্ড সরকার যথাসম্ভব ঘরে থেকে কাজ করতে বলেছে।
সুইজারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী এলাইন বারসেট বলেছেন, অন্য যে কোনো জায়গার চেয়ে তার দেশে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১ লাখ লোকের মৃত্যু এবং ৪ কোটি লোক করোনা আক্রান্ত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক দেশ লকডাউনের কারণে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় ছাড়াই কিভাবে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।