শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে মতবিনিময় : সভা সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার আহ্বান

15

আগামী ২২ অক্টোবর থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজা মণ্ডপগুলোয় এখন আগমনী সুর। হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ এই উৎসবকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হিন্দু নেতাদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পূজা চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা ও করোনা পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২০ উদযাপন উপলক্ষে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের গৃহীত অভিন্ন সিদ্ধান্তসমূহ স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়।
পূজামণ্ডপগুলোর করণীয় হিসেবে বলা হয়, পূজা মণ্ডপসমূহের প্রবেশ পথে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখা। প্রয়োজনে প্রবেশ পথে থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই জনসমাগমের কারণে সরকারের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি উপেক্ষিত না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা। সকল পূজামণ্ডপে জনসমাগম সীমিত রাখতে হবে এবং জীবাণুনাশক অটো-স্প্রে মেশিন ব্যবহার করতে হবে। পূজাম-পে আগত দর্শনার্থীদের জীবাণুমুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা, দর্শনার্থী, ভক্ত ও পুরোহিতসহ সকলকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করা এবং ন্যূনতম ৩ ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা। কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্্যাপনে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালন করা।
পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দুর্গাপূজা চলাকালীন পূজামণ্ডপ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা টহল দায়িত্ব পালন করবেন। সীমান্ত এলাকায় স্থাপিত পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবিকে সতর্কতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। প্রত্যেকটি পূজাম-পের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নিজ নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল নিয়োজিত করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবকদেরকে আবশ্যিকভাবে আর্ম-ব্যান্ড পরিধান ও পরিচিতি কার্ড গলায় ঝুলিয়ে রাখার জন্য নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নারী দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশির জন্য নারী স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করতে হবে। বড় পূজামণ্ডপগুলোতে র‌্যাব ও পুলিশের বিশেষ টহল এবং নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। স্থানীয় বখাটেরা পূজামণ্ডপে আগত নারী ও শিশুদের উত্ত্যক্ত করা, ইভটিজিং, মাদকসেবন ইত্যাদি রোধে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও নির্গমন পথ রাখতে হবে।
এছাড়া বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনকালে কোনো ধরনের শোভাযাত্রার আয়োজন না করা, স্থানীয়ভাবে পূজামণ্ডপের পাশে উপযুক্ত স্থানে প্রতিমা বিসর্জনের আয়োজন করা এবং বিসর্জনস্থলে পর্যাপ্ত আলোর (জেনারেটর/হ্যাজাক লাইটসহ) ব্যবস্থা ও অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রতিমা বিসর্জনের স্থানে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ডের ডুবুরি দলকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বিসর্জন কার্যক্রম শেষ করতে হবে। কোনো সমস্যায় ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার জন্য অনুরোধ করতে হবে। ভক্তিমূলক সংগীত ব্যতীত অন্য সংগীত বাজানো থেকে বিরত থাকা এবং মন্দির/পূজামণ্ডপে প্রয়োজনাতিরিক্ত দীর্ঘ সময় অবস্থান না করা। নিয়ন্ত্রণ কক্ষের টেলিফোন নম্বর পূজা উদ্্যাপন কমিটি ও সংশ্লিষ্টদের অবহিত করতে হবে। আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা এবং বিসর্জন চলাকালে শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখা ও উচ্চস্বরে শব্দযন্ত্র ব্যবহার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা।
সভায় বক্তব্য দেন, সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবাবগঞ্জ সার্কেল) মো. ইকবাল হোছাইন, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান ফৌজদার, নাচোল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় চ্যাটাজঈ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক ডাবলু কুমার ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার ঘোষ, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার রায় ও গৌরী চন্দ সিতু।