ইরাকে দূতাবাস বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

12

দূতাবাসে হামলা আটকাতে না পারলে ইরাকে থেকে কূটনীতিক প্রত্যাহারের হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এক সপ্তাহ আগেই ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহকে ফোন করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দূতাবাস বন্ধের এ হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন দুই ইরাকি কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই দুই কর্মকর্তা এবং পশ্চিমা দুই কূটনীতিকও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এরইমধ্যে কূটনীতিকদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। যদি তাই হয়, তবে ইরাক আবারও যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কিত ইরাকিরা। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সুরক্ষিত ‘গ্রিন জোনে’ যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের দূতাবাস রয়েছে। ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ও আছে। সম্প্রতি বাগদাদের ‘গ্রিন জোনে’ রকেট এবং বোমা হামলার ঘটনা বেড়ে গেছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান সমর্থিত ইরাকি স্বশস্ত্রগোষ্ঠী ওই হামলা চালাচ্ছে। ইরাকের অভ্যন্তরীন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারে বাধ্য করতে এ হামলা চালানো হচ্ছে বলে ধারণা অনেকের। ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর বলেছে, “ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো আমাদের দূতাবাসে রকেট হামলা করছে। এ হামলা শুধু আমাদের জন্যই নয়, ইরাক সরকারের জন্যও বিপেদর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” গত জানুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলেমানিকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করে যুক্তরাষ্ট্র। সোলেমানি হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইরাকে মার্কিন সেনা ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালায় ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। গত চার বছরে একাধিকবার দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সব থেকে বড়া আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল কাসেম সোলেমানি হত্যার পর। যদিও পরে উভয়পক্ষ কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। দেশটির করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে বেকায়দায় আছেন ট্রাম্প। ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে তার কৌশল বলতে গেলে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। দেশটি এখন এ রোগের সংক্রমণ এবং মৃত্যু উভয় তালিকাতেই শীর্ষে অবস্থান করছেন। আমেরিকানরা কোভিড-১৯ নিয়ে ট্রাম্পের উল্টাপাল্টা কথাতেও বিরক্ত। নির্বাচনের এ সময়ে তাই ভোটারদের মনযোগ কাড়তে ইরান হতে পারে ট্রাম্পের বড় অস্ত্র। ট্রাম্প বরাবরই ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থানে থেকেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও দিয়ে আসছেন। ইরাকি কর্মকর্তাদের একাংশ অবশ্য পম্পেওর কূটনীতিক প্রত্যাহারের হুমকি খুব একটা গায়ে মাখছেন না। তারা বলছেন, সম্ভবত স্বশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোকে ভয় দেখিয়ে দেশটিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় হামলা ঠেকাতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু এ কৌশলের উল্টো ফলও হতে পারে। মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো একে ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়িয়ে দেওয়ার উপায় ভেবে হামলা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ইরাকের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটির সদস্য গাতি রিকাবির কথায়, ‘‘আমেরিকানরা হয়ত চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু এই কৌশল দুইধারী তলোয়ারের মত হতে পারে।” ইরাকিদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নিলে ওয়াশিংটন হামলার জন্য যে গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই সামরিক অভিযান শুরু হয়ে যেতে পারে। ফলে ইরাক আবার যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।