করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা : সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই

16

আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও এই আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন এবং দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের কথা বলছেন।
দেশে এরই মধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত (গত শুক্রবার) করোনা শনাক্ত হয়েছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭৬৭ জন । মোট সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৪ জন জন। এখন পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১৮ লাখ ৮৮ হাজার ১০টি ।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। যে যার কর্মস্থলে যাতায়াত করছেন। বাজারঘাট করতেও বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন। কিন্তু অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। মাস্ক ব্যবহারে অনীহা ভাব দেখা যাচ্ছে অনেকের মধ্যে। কেউ কেউ টাকার অভাবে মাস্ক কিনতে না পারার কারণে খালি মুখে বের হচ্ছেন। কেউ আবার জেনেশুনেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। অনেককে আবার মুখে না পরে থুতনিতে পরে কেউবা আবার পকেটে করে নিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যারা মাস্ক ব্যবহার করছেন, তাদের বেশিরভাগেরই মাস্ক ময়লাযুক্ত। তবে সচেতন মহল বলছেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
দেশে করোনা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সম্প্রতি তিনি শীতকালে করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং এখন থেকেই সাবধান হওয়ার জন্য বলেছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময়ে জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন অফিস সূত্র মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত ৭ এপ্রিল থেকে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সংগৃহীত সেইসব নমুনা রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি ল্যাবে এবং ঢাকায় প্রাণিসম্পদের ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ২০ এপ্রিল এবং প্রথম এক ব্যক্তির মৃত্যু হয় গত ১৮ জুলাই।
সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী জানান, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ৭৭১ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৭০৮ জন। এখন পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ১৪ জনের এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন ৪৯ জন।
করোনা ভাইরাসে সংক্রমিতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৪২৪ জন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৭৪ জন, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫৯ জন, নাচোল উপজেলায় ৫২ জন এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৬২ জন রয়েছেন।
অপর দিকে এখন পর্যন্ত সুস্থ হওয়া ৭০৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলায় ৩৮৩ জন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৬৭ জন, গোমস্তাপুর উপজেলায় ৫৮ জন, নাচোল উপজেলায় ৫০ জন এবং ভোলাহাট উপজেলায় ৫০ জন রয়েছেন। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ১৪ জনের মধ্যে জেলা সদরে ১০ জন, শিবগঞ্জে ৩ জন ও ভোলাহাটের ১ জন রয়েছেন।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহরের পরামর্শ দেন সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী। তিনি বলেন, করোনা প্রতিরোধে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।