অবৈধ পথে ক্ষমতা দখলে বিএনপি ষড়যন্ত্রের অলিগলি খুঁজে বেড়াচ্ছে : সেতুমন্ত্রী

14

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, করোনা মহামারির এ সময় বিএনপি-জামায়াত জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে অবৈধপথে চোরা গলি দিয়ে ক্ষমতায় আসার জন্য ষড়যন্ত্রের অলিগলি খুঁজে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘দুঃস্বপ্নে তারা বিভোর হয়ে আছেন। গণবিরোধী ও দেশবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হলে দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই তার দাঁতভাঙা জবাব দেয়া হবে।’
শুক্রবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের সম্পাদকম-লী, দলের ঢাকা মহানগর শাখা এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের গভীর ষড়যন্ত্রের তথ্য উদ্্ঘাটন করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। যা এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত জোট কখনোই জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করতে চায় না। সর্বদাই তাদের ষড়যন্ত্রের রাজনীতি। তাদের আস্থা স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশবিরোধী অপশক্তিতে। আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের আবেগ ভালোবাসা আশা-আকাক্সক্ষা ধারণ করে। কাজে-কর্মে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটায়। আওয়ামী লীগ কখনো ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করে না। ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বরদাস্ত করে না কিন্তু বারে বারে আওয়ামী লীগই ষড়যন্ত্রের শিকার হয়।’ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে মানবিক কারণে মুক্তি দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে দ-প্রাপ্ত একজন আসামি। করোনা সংক্রমণকালে প্রধানমন্ত্রী সর্বোচ্চ মানবিকতা ও উদারতার পরিচয় দিয়ে তাকে জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করেন। এই মানবিকতা বা উদারতাকে বিএনপি দুর্বলতা মনে করলে ভুল করবে। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘জনগণের প্রতি আস্থাহীন হয়ে বিএনপি নেতৃবৃন্দ বারবার ভুল করে আসছে বলেই তারা জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী যাতে আওয়ামী লীগে জায়গা না পায় তার জন্য দল ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দকে সতর্ক থাকতে হবে। দলের সভাপতিম-লীর সভায় দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। হঠাৎ করে কেউ দলে এলে তাকে প্রথমেই নেতা বানানো যাবে না।’ তিনি বলেন, জাতীয় সম্মেলনের আগে পরে ৩১টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। করোনা সংক্রমণের বাস্তব কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে অধিকাংশ পূর্ণাঙ্গ কমিটি কেন্দ্রীয় দপ্তরে জমা পড়েছে। দলীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই- কমিটি গঠনে দলের প্রেসিডিয়াম সভায় নেত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। তা মেনেই পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে। দলের দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। আপনারা যারা কমিটি করেছেন বা করবেন, তাদের কমিটি গঠনে এ নিন্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।’
ওবায়দুল কাদের ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধুর বাংলায় ভাষণ দেয়ার ঘটনা স্মরণ করে বলেন, এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় বক্তৃতা করে সারা দুনিয়ার সকল বাঙালিকে ধন্য করেন। গৌরবান্বিত করেন।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশা লাঘবে ৭৩ বছর পেরিয়েও তিনি অবিরাম ছুটে বেড়িয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার জন্মদিন বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। বঙ্গবন্ধু আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতার রোল মডেল। শেখ হাসিনা আমাদের উন্নয়ন এবং অর্জনের রোল মডেল। নিজে যা অর্জন করেছেন তা নজিরবিহীন। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে বিশেষ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন। তার জন্মদিন পালন না করলে আমরা জাতির কাছে অকৃতজ্ঞ থেকে যাব।
এ সময় ওবায়দুল কাদের দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগ দিনটি উপলক্ষে সারাদেশে সকল মসজিদে দোয়া মাহফিল এবং মন্দির, প্যাগোডা গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেছে।