মাঠে ফিরতে চান যুবরাজ সিং

4

অবসর ঘোষণার ১৫ মাস পর আবার ব্যাট-বল হাতে মাঠে ফিরতে চান যুবরাজ সিং। পাঞ্জাবের হয়ে ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলার অনুমতি চেয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইকে মেইল করেছেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। অন্তত দুই মৌসুম পাঞ্জাবের হয়ে খেলতে পারবেন, নিজে এটি নিশ্চিত হওয়ার পরই ভারতীয় বোর্ডের প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি ও সেক্রেটারি জয় শাহকে মেইল করেছেন যুবরাজ। ৩৮ বছর বয়সী ক্রিকেটার আপাতত শুধু টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেই ফিরতে চান। বোর্ড এখনও তার চিঠির জবাব দেয়নি। গত বছরের জুনে স্বীকৃত সব ধরণের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর পর কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ ও আবু ধাবিতে টি-টেন লিগে খেলেছেন যুবরাজ। এখন ভারতীয় ক্রিকেটে ফেরার জন্য বোর্ডের অনুমতির প্রয়োজন পড়ছে এ কারণেই। ভারতীয় বোর্ডের কতৃত্বে থাকা ক্রিকেটারদের দেশের বাইরের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অনুমতি দেওয়া হয় না। যুবরাজ তার মেইলে উল্লেখ করেছেন, ফেরার অনুমতি পেলে দেশের বাইরের লিগে তিনি খেলবেন না। সেক্ষেত্রে বিগ ব্যাশে তার খেলা নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সেটিরও সমাপ্তি হবে। যুবরাজের ফেরার এই ভাবনা এসেছে পাঞ্জাবের তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে। করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন স্থগিত আছে ভারতের ঘরোয়া মৌসুম। পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের অনুরোধে গত কয়েক মাসে তরুণ শুভমান গিল, অভিশেক শর্মা, প্রাভসিমরান সিং ও আনমোলপ্রিত সিংয়ের সঙ্গে কাজ করেছেন যুবরাজ। তখনই ক্রিকেটে ফেরার তাড়না অনুভব করেন বলে তিনি বুধবার বিকেলে জানালেন ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে। “এই তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আমি উপভোগ করেছি। খেলার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয়েছে, তাদেরকে যা বলছি সেগুলোর অনেক কিছুই তারা বুঝতে পারছে।” “তাদেরকে আরও কিছু বিষয় দেখানোর জন্য আমাকে নেটে ব্যাটিং করতে হয়েছিল। আনন্দভরা বিস্ময় নিয়ে আমি দেখেছি, দীর্ঘদিন ব্যাট না ধরলেও আমি কতটা ভালোভাবে বল মারতে পেরেছি।” লকডাউন শিথিল হওয়ার পর শুরুতে টেনিস ও গলফ খেলেই সময় কাটিয়েছেন যুবরাজ। পরে পাঞ্জাবের ওই ক্যাম্পে অনুশীলনের সময়ই প্রস্তাব পান ফেরার। এরপর অনেক ভেবে নিয়েছেন সিদ্ধান্ত। “ মাস দুয়েক ট্রেনিং করার পর আমি পাঞ্জাবের ওই ক্যাম্পে ব্যাটিং শুরু করলাম। কয়েকটি প্র্যাকটিস ম্যাচে রানও করলাম। এরকমই একটা সেশনের পর পাঞ্জাব ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি পুনিত বালি জিজ্ঞেস করলেন, অবসর ভেঙে ফেরার কথা আমি বিবেচনা করব কিনা।” “প্রথমদিকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। ঘরোয়া ক্রিকেটে আমার অধ্যায় শেষই হয়ে গিয়েছিল। যদিও বিসিসিআইয়ের অনুমতি পেলে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা চালিয়ে যেতে চাইছিলাম। তবে জনাব বালির অনুরোধও ফেলতে পারছিলাম না। প্রায় তিন-চার সপ্তাহ ধরে ভেবেছি অনেক। একপর্যায়ে ব্যাপারটি এমন হয়ে গিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ারও প্রয়োজন পড়েনি।” ভারতীয় দলে সাবেক সতীর্থ ও পাঞ্জাবের ক্রিকেটে বেড়ে ওঠার সঙ্গী হরভজন সিংয়ের সঙ্গে মিলে প্রিয় রাজ্যকে ট্রফি এনে দেওয়ার তাড়নাও কাজ করেছে সিদ্ধানের পেছনে, জানালেন যুবরাজ। “ পাঞ্জাবকে চ্যাম্পিয়নশিপ জেতানোই প্রেরণা। ভাজ্জি (হরভজন সিং), আমি, আমরা ট্রফি জিতেছি, কিন্তু পাঞ্জাবের হয়ে একসঙ্গে জিতিনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে সেটি বড় একটি কারণ ছিল।” আপাতত তার ফেরার পরিকল্পনায় আছে কেবল টি-টোয়েন্টি। আইপিএল ছাড়াও ভারতে ২০ ওভারের ক্রিকেটে টুর্নামেন্ট আছে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি। তবে ভবিষ্যতর জন্য পথ খোলা রাখছেন আরও। “ এখন যা ভাবনা, যদি অনুমতি পাই, তাহলে কেবল টি-টোয়েন্টি খেলব। তবে কে জানে, দেখা যাক।”